বেলা বাড়তে দেখা যায় উপজেলা অফিস চত্বরের পুকুরে একটি বস্তা ভেসে উঠেছে। বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় আট কুকুর ছানার দেহ।
সোমবার গভীর রাত থেকে সরকারি আবাসনের থাকা কুকুরটি (Dog) চিৎকার ও ছোটাছুটি করছিল। তাতে আবাসনের অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায়। চোর ঢুকেছে ভেবে এক দু’জন টর্চ হাতে বেরিয়ে আসেন। কাউকে দেখতে না পেয়ে কুকুরটি গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে ফিরে যান তারা। কুকুরটি কিন্তু যথারীতি চিৎকার করছিল।
দিনের আলো ফোটার পরও কুকুরটি আর্তনাদ করতে থাকায় আবাসনে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে কেউ কেউ ভেবেছিলেন, কুকুরটি অসুস্থ পড়েছে। হয়তো জ্বালা যন্ত্রণার কারণে চিৎকার করছে। পরে সকলে লক্ষ্য করেন, কুকুরটির আটটি ছানা (8 Puppies Death in Bangladesh) আবাসন থেকে উধাও।
কুকুর ছানাগুলি কেউ চুরি করেছে বলে সকলের ধরে নেন। সকাল সাড়ে নটা নাগাদ উপজেলা প্রশাসনের অফিস খুললে দেখা যায় কুকুরটি ওই ভবনের দোতলায় একজন অফিসারের কক্ষের বাইরে গিয়ে চিৎকার করছে। সেখান থেকে অনেক কসরত করে কুকুরটিকে নিচে নামানো হলেও সেটি ফের ওই অফিসারের ঘরের বাইরে গিয়ে আর্তনাদ করতে থাকে। তখনও কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারেননি।
বেলা বাড়তে দেখা যায় উপজেলা অফিস চত্বরের পুকুরে একটি বস্তা ভেসে উঠেছে। বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় আট কুকুর ছানার দেহ। সন্তানের মরা দেহ দেখতে পেয়ে কুকুরটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এবার দোতলায় সেই অফিসারের ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে মা কুকুরটি। তেড়ে যায় আধিকারিকের দিকে। গোটা অফিস চত্বরে এ নিয়ে তুমুল কৌতূহল ও জল্পনা শুরু হয়। কুকুরটিকে (8 Puppies Death in Bangladesh) কিছুতেই ওই উপজেলা অফিসারের ঘর থেকে বের করা যাচ্ছিল না। বারে বারেই সে অফিসারের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল।
এতেই অনেকের সন্দেহ হয় কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় ওই অফিসারের হাত থাকতে পারে। মা কুকুরটি আসলে খুনিকেই চিনিয়ে দিচ্ছে। অফিসের বাকিদের জেরার মুখে ওই অফিসার এক সময় স্বীকার করেন তিনি আগের রাতে কুকুরছানা গুলিকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন।
ঘটনাটি বাংলাদেশের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার। এইভাবে আট কুকুর ছানাকে হত্যা করার অপরাধে জনমতের চাপে দ্রুত পদক্ষেপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম হাসানুর রহমান। তিনি উপজেলা কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে কর্মরত। তাকে বুধবার সকালের মধ্যে সরকারি বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়।
Partha Goswami
03/12/2025







