খাবার অর্ডার-ই কাল হল! ‘৩ বছরে টাকা ডাবল’ স্ক্যামের মাথা গ্রেফতার কানপুরে, ৯০০ কোটি নয়ছয়ের অভিযোগ

SHARE:

৭০০–র বেশি ক্লায়েন্টকে তারা এই বলে ফাঁসিয়েছিল যে, প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তারা পরিচালনা করছে এবং অবিশ্বাস্য মুনাফাও দেবে।

খাবারের অর্ডার থেকেই শেষমেশ পর্যন্ত ধরা পড়ল দুবাইয়ের বহুলচর্চিত ব্লুচিপ গ্রুপ প্রতারণার (BlueChip fraud) মূল মাথা রবীন্দ্র নাথ সোনি (Ravindra Nath Soni arrest)। ৪৪ বছর বয়সি এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীকে গত ৩০ নভেম্বর দেরাদুনের এক গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করেছে কানপুর পুলিশ (Kanpur Police)। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রায় দেড় বছর ধরে চলছিল তাঁর খোঁজ। খালিজ টাইমস–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইয়ে ব্লুচিপ গ্রুপের (BlueChip scam Dubai) নামে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ জালিয়াতির প্রধান অভিযুক্ত তিনিই।

দুবাইয়ের প্রবাসী ভারতীয়-সহ কয়েকশো বিনিয়োগকারীকে তিনি অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে হঠাৎই ব্লুচিপের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে। অফিস খালি, টাকা ফেরত বন্ধ – সেই সঙ্গেই গা-ঢাকা দেন সোনি। বিশাল অঙ্কের ক্ষতিতে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।

খাবারের অর্ডার থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার

সোনির গ্রেফতারের কাহিনি বেশ টানটান, নাটকীয়। কানপুরের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অঞ্জলি বিশ্বকর্মা জানান, দেরাদুনের লুকিয়ে থাকার সময় কোনও একটি বাড়ি থেকে খাবার ডেলিভারির জন্য অর্ডার করেন সোনি। সেই অর্ডারের তথ্য হাতে পেয়ে পুলিশের বিশেষ দল লোকেশন ট্র্যাক করে হানা দেয়। ‘‘খাবারের অর্ডার থেকেই আমরা খবর পাই। কী অর্ডার করেছিলেন জানি না; আমরা তৎক্ষণাৎ তাকে ধরতে ছুটেছিলাম। এটা বড় একটা গ্রেফতারি,’’ বলেন বিশ্বকর্মা।

বর্তমানে সোনিকে কানপুরে আটক করে রাখা হয়েছে।

ভারতীয় বিনিয়োগকারীর অভিযোগে দায়ের হয় মামলা

সোনির বিরুদ্ধে ভারতীয় বিনিয়োগকারী আব্দুল করিম ৫ জানুয়ারি কানপুরে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। করিম এবং তাঁর ছেলে তালহা, যিনি দুবাইয়ে কাজ করেন, মোট ১৬ লাখ দিরহাম (দুবাইয়ের মুদ্রা) বিনিয়োগ করেছিলেন। সোনি নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিন বছরের মধ্যে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করে দেবেন।

তালহার কথায়, “দুবাইয়ে অফিস-চলতি কার্যক্রম দেখে আমরা ভরসা করেছিলাম। এখন গোটা মামলা আমরা অত্যন্ত কাছ থেকে নজর রাখছি।”

সোনির মাথার দাম হিসাবে আগেই ঘোষণা হয়েছিল ১০ হাজার টাকা পুরস্কার। গ্রেফতারির পর তাঁর জামিনের আবেদনও আদালত খারিজ করেছে। তদন্ত দীর্ঘায়িত করার জন্য পুলিশ আরও সময় চাইছে।

ব্লুচিপ গ্রুপ: ১০০ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি

ব্লুচিপ গ্রুপের দুবাই অফিস ছিল বুর দুবাইয়ের আল জওয়াহারা বিল্ডিংয়ে। ৭০০–র বেশি ক্লায়েন্টকে তারা এই বলে ফাঁসিয়েছিল যে, প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তারা পরিচালনা করছে এবং অবিশ্বাস্য মুনাফাও দেবে।

কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে সবকিছু থমকে যায় – টাকা ফেরত বন্ধ, অফিস খালি, সোনি উধাও। বহু ইউএই নাগরিক ও প্রবাসী ভারতীয় ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অফিস বন্ধের আগেই সোনি মোটা অঙ্কের টাকা একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটে সরিয়ে ফেলেছিলেন। এর আগেও আলিগড় ও পানিপতে একই ধরনের ‘ডাবল-ইওর-মানি’ স্কিম এবং ভয় দেখানোর মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আশঙ্কা, তদন্ত আরও বিস্তৃত

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখন টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না। পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পূর্ব কানপুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সত্যজিৎ গুপ্ত জানান, “আমরা গোটা চক্রটি ভেঙে ফেলতে চাই। ইউএই–সহ যেসব জায়গায় টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই অঞ্চলেই অভিযোগ জানাতে হবে বিনিয়োগকারীদের।”

একজন ইউএই–র বিনিয়োগকারী, যিনি ১২ লাখ দিরহাম হারিয়েছেন, বলেন, “গ্রেফতার হওয়াটা স্বস্তি দিলেও, টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই শেষ নয়।”

Partha Goswami

04/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई