শুধু লাল বল নয়, ঘুণ ধরেছে ওয়ানডেতেও! রায়পুরের পরাজয়ে বাড়ল গম্ভীরের দুশ্চিন্তা

SHARE:

রাঁচি ও রায়পুর দুটো ম্যাচই এক স্ক্রিপ্টে লেখা—টস হার, বিরাটের সেঞ্চুরি, ৩৫০ ছোঁয়া স্কোর, শিশিরে বোলারদের ব্যর্থতা, আর সব মিলিয়ে জয় হাতছাড়া।

রাঁচির ১৭ রানের জয় যে ভারতকে ভরসা দেবে, তা-ই মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। কিন্তু রায়পুরে ৩৫৯ তুলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সহজে হারএটা শুধু ভুল টস বা ‘ডিউ ফ্যাক্টর’-এর গল্প নয়। ওয়ানডে ফরম্যাটেও ভারতের পুরনো রোগ ফের মাথা তুলেছে। শেষের ওভারে ‘ফিনিশিং’-এর ঘাটতি, মাঝ ও শেষ পর্যায়ে গতি ধরে রাখতে না পারা আর বোলারদের হাতে ভেজা বলসব মিলিয়ে গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) জন্য সতর্কবার্তা আরও প্রবল হল।

হিসেব ছিল সহজস্কোরবোর্ডে ৩৫৯ রান। মানে প্রেশার তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা যে আত্মবিশ্বাস দেখাল, তাতে স্পষ্ট, টার্গেটটা নামেই বড়। ভারত প্রথম ইনিংসেই অন্তত ২০৩০ রান কম তুলেছে। বিরাট কোহলির (Virat Kohli) ফের সেঞ্চুরি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের (Ruturaj Gaikwad) প্রথম ওয়ানডে শতরানদু’জন মিলে ১৯৫ রানের জুটি। সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে শেষ ১১ ওভারে স্রেফ ৭৪ রানএটা আধুনিক ওয়ানডেতে অক্ষমণীয় ভুল!

৩৬তম ওভারে স্কোর ছিল ২৫৭/২। চোখ বন্ধ করে ৩৭০৩৮০ তুলে নেওয়া যেত। কিন্তু ৪১তম ওভারে পৌঁছতেই ২৮৯/৫। ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) ১ রানে আউট, জাদেজা (Jadeja) ২৪ বলে ২৭কেউই ম্যাচের গতি বুঝে রান তোলার চাপ নিলেন না। আবারও ত্রাতা কেএল রাহুল (KL Rahul)। একাই ঠেকালেন ধসকরেলেন ৬৬*। মানে কাঠামো বাঁচানো, ফিনিশারের ভূমিকায় যেতেই পারলেন না!  ফলে ৩৫৮এর স্কোর দেখাল বড়কিন্তু আদতে যথেষ্ট নয়।

বল হাতেও নগ্ন ভারতের সবচেয়ে বড় সংকট। যেটা রাঁচি টেকে ঢেকে গিয়েছিলরায়পুর তা বে-আব্রু করে দিল। বছরের পর বছর টিম ইন্ডিয়া ওয়ানডে ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ‘ফিনিশারখুঁজে পাচ্ছে না। হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya) চোটে জর্জরিত, তাই তাঁর উপর ভরসা করা যায় না। রাহুল ফিনিশার ননগেম ম্যানেজ করেন। শেষ ১০ ওভারে ম্যাচের গতি পাল্টানোর জন্য প্রয়োজন অন্য ধরনের ব্যাটার।

সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপ। এখন থেকেই প্রস্তুতি জরুরি। সেই জায়গায় রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) স্পষ্ট বিকল্প। ম্যাচ পড়তে দড়, প্রথম বল থেকেই মারতে পারেন, প্রেশারে শান্তএটাই ফিনিশারের আধুনিক সংজ্ঞা। রিয়ান পরাগও (Riyan Parag) ‘মাল্টিডাইমেনশনাল’। অক্ষরজাদেজা একই ছাঁচের। কিন্তু নতুন ফরম্যাটে প্রয়োজন অন্য ধরনের রিস্কটেকার।

রাঁচি ও রায়পুর দুটো ম্যাচই এক স্ক্রিপ্টে লেখাটস হার, বিরাটের সেঞ্চুরি, ৩৫০ ছোঁয়া স্কোর, শিশিরে বোলারদের ব্যর্থতা, আর সব মিলিয়ে জয় হাতছাড়া। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ব্যাটিং গভীরতা দিয়ে কাজটা সহজ করে তুলেছে। মার্করাম (Aiden Markram) ১১০, ব্রিটজকে (Matthew Breetzke) ৬৮, ব্রেভিস (Dewald Brevis) ৫৪তারপর মহারাজবোশ (Keshav Maharaj / Corbin Bosch) জুটি খেলার ইতি টানল শান্ত মাথায়। একদিকে ভারতের শেষ পাঁচ ওভার৪১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা তুলল ৬১। সেখানেই ম্যাচ হেরে গেলেন রাহুলরা!

গম্ভীর বরাবরই ওয়ানডে–তে একটা শক্তিশালী, নির্দিষ্ট কাঠামোর দাবি জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু রায়পুর দেখিয়ে দিলএকদিনের ক্রিকেটে ‘ডেথ ওভার স্ট্র্যাটেজি এখনও অনির্দিষ্ট, অগোছালো ও ব্যাটিংরোলে স্পষ্টতা নেই। এই পরাজয় শুধু এক ম্যাচের নয়এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতের ওয়ানডে চিন্তাধারায় বড় রদবদলের প্রয়োজন। নয়তো ৩৫০এর উপর স্কোর করেও বারবার হোঁচট খাওয়ার দুর্ভাগ্য চলতেই থাকবে।

Partha Goswami

04/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई