শুক্রবার সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা সিইও-দের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR-এর জন্য মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। তবে শর্ত আছে।
ভোটার তালিকায় (SIR Voter List) সংশোধন তথা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) বলে বিরোধীদের অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। তা ছাড়া বাংলায় এক শ্রেণির বিএলও, যাঁদের কেউ কেউ তৃণমূলপন্থী বলছেন, তাঁরাও ফর্ম (SIR form) সংগ্রহের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে চলেছেন। এ হেন পরিস্থিতিতে কমিশনও ধীরে চলো কৌশল নিচ্ছে। এসআইআরের (sir in west bengal) মেয়াদ যে বাড়তে পারে সে ব্যাপারে সবার আগে জানিয়েছিল দ্য ওয়াল (The Wall)। হয়েছিলও তাই। শুক্রবার সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা সিইও-দের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR-এর জন্য মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে (SIR last date in West Bengal)। তবে শর্ত আছে।
কী শর্ত?
জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর কাজের ডেডলাইন (Dateline) বাড়াতে হলে, সিইও মনোজ আগরওয়ালকে এ ব্যাপারে কমিশনের কাছে সুস্পষ্ট ভাবে সুপারিশ জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেই সুপারিশ খতিয়ে দেখে তারপর ডেডলাইন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে। মনে রাখতে হবে, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ছাড়াও বাংলার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশন ১৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে একজন স্পেশাল রোল অবজারভার, যিনি অবসরপ্রাপ্ত দুঁদে আইএএস, বাকি ১২ জন ইলেকটোরাল রোল অবজারভার। তাঁরাও সকলেই সিনিয়র আইএএস অফিসার (IAS Officer)। কমিশন এঁদের থেকেও রিপোর্ট নেবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, যে ১২টি রাজ্যে এখন এসআইআর চলছে, সেই সব রাজ্যের কাছ থেকেই এ ব্যাপারে সুপারিশ বা মতামত জানতে চেয়েছে কমিশন।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, এটা কমিশনের একটা কৌশল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কৌশলগত পদক্ষেপ করছে জাতীয় নির্বাচন সদন। কারণ, কমিশনের অনেক অফিসারের ধারণা, বাংলায় এখনও পর্যন্ত যত ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে, তাতেও জল রয়েছে। সেই জল বাদ দিয়ে পরমহংসের মতো খাঁটি ভোটার তালিকা তৈরি করা চ্যালেঞ্জ। কমিশন ইতিমধ্যেই ডুপ্লিকেট ভোটার ঝাড়াই বাছাই করতে একটি সফ্টওয়্যার কাজে লাগাতে শুরু করেছে। সফটওয়্যারে এ বার ফেসিয়াল রেকগনিশনের সুবিধা যুক্ত হয়েছে। সঙ্গে বার্থ ও ডেথ রেজিস্ট্রেশন চেক এবং আধার অ্যাক্টিভেশন ও ডি-অ্যাক্টিভেশনের ডেটা চেক করার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।
কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, যে সব আধার কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে গেছে, সেই সব আধারকার্ড দিয়ে এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে। সেই স্ক্রুটিনি করতেও কিছুটা সময় লাগবে। তবে কমিশন হয়তো দেখাতে চাইবে না যে, তাদের ঝাড়াই বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। বরং এটাই দেখানো হতে পারে যে সাধারণ মানুষকে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে। যাতে একজন যোগ্য ভোটারের নামও খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।
Partha Goswami
05/12/2025







