ভোটের ময়দানে পুলিশ নিয়ে সংঘাত! নন্দীগ্রামে কাঠগড়ায় বিজেপি, পিংলায় ওসির অপসারণ চান শুভেন্দু

SHARE:

নন্দীগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ শশী পাঁজার। পাল্টা পিংলার ওসির সাসপেনশন দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের সকালে পুলিশি সক্রিয়তা নিয়ে উত্তাল রাজনীতি।

২০২৬-এর মেগা বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে চলছে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন দেখা গেলেও, তার সমান্তরালে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা।

একদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে পুলিশি সক্রিয়তা নিয়ে নালিশ জানাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পুলিশের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতের অভিযোগে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

নন্দীগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে তৃণমূলের তোপ

বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন পুলিশকর্মী সরাসরি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে দুই পুলিশ আধিকারিকের নামোল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানানো হয়েছে।

এই অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবালের দ্বারে পৌঁছায় তৃণমূলের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরই কেন নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।

পিংলার ওসির অপসারণ দাবি শুভেন্দুর

তৃণমূল যখন নন্দীগ্রাম নিয়ে সরব, ঠিক তখনই পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পিংলা থানার ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দুর দাবি, পিংলার বর্তমান ওসি চিন্ময় প্রামাণিক বিজেপির পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং শাসকদলকে মদত জোগাচ্ছেন।

তিনি কড়া সুরে বলেন, “পিংলার ওসিকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে।” এই মর্মে তিনি খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন আধিকারিকদের অবিলম্বে সরানো প্রয়োজন।

কমিশনের সক্রিয়তা ও মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ

প্রসঙ্গত, গত রবিবার থেকেই রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে রদবদলের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বুধবার রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকজন জেলা শাসক ও পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরেই ঘনীভূত হয়েছে বিতর্ক।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে নিজের কড়া আপত্তির কথা জানিয়েছেন। নবান্নের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই বদলি করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। অতীতে প্যানেল চেয়ে যে নিয়োগ করা হতো, এবার সেই প্রথা কেন মানা হচ্ছে না, তা নিয়ে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের চিত্র ও পরিসংখ্যান

বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও ডোমকলে বাম সমর্থকদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো কিছু অভিযোগ এলেও, কমিশন জানিয়েছে প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্ত। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে গড়ে ১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একদিকে নির্বাচন কমিশনের অভূতপূর্ব নজরদারি, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের ওপর পুলিশের তকমা সেঁটে দেওয়ার লড়াই— সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটযুদ্ধের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এখন সাধারণ ভোটারের কাছে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Partha Goswami

23/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई