মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যে শুনানি চলছে, তাতে প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘শুল্ক বদলা’ নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল প্রশ্ন তুলল সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। এ বছরের গোড়া থেকেই ঢাক ঢাক গুড়গুড় করতে করতে অবশেষে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের উপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। যা গোটা বিশ্বকে দুলিয়ে দিয়েছে।
এখন তা নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যে শুনানি চলছে, তাতে প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। ট্রাম্পের বিশ্ব শুল্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলার পর একাংশের বিশ্বাস আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত এই নির্দেশকে বাতিল করে দিতে পারে। কিন্তু, তার সঙ্গে সঙ্গেই আরও একটি ঝঞ্ঝাট মাথাচাড়া দিয়েছে। আর তা হল, সুপ্রিম কোর্ট যদি ট্রাম্পের বিপক্ষে নির্দেশ দেয়, তাহলে তিনি নিশ্চই বিকল্প কোনও বাণিজ্য কৌশল নেবেন, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
গত বুধবার মৌখিক সওয়াল-জবাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি আর্থিক ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যে আইনে শুল্ক নিয়ে কোনও কথাই বলা নেই। কেবলমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করলে একমাত্র তখনই আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ জারি করতে পারেন, একথা বলা আছে।
আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সুপ্রিম কোর্টে হেরে যায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত অন্য বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে শুল্ক হার অপরিবর্তিত রাখবেন। বাণিজ্য আইনজীবী, ট্রাম্প প্রশাসনের পদস্থ অফিসার, আমদানিকারী কোম্পানি এবং অর্থ-বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণাও একইরকম। এই মামলার নিষ্পত্তি ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ছাড়া হওয়ার নয়। কিন্তু, শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা এনিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কারণ ইতিমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো ঢালা হয়ে গিয়েছে। শেষমেশ ট্রাম্প এই মামলায় হেরে গেলে, সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, তা নিয়ে মাঝ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন তাঁরা।
Partha Goswami
06/11/2025







