ধনধান্য অডিটোরিয়ামের চারদিক আজ ঝলমল করছে আলোয়, কানে বাজছে গুঞ্জন—সিনেমা উৎসবের। ৬ নভেম্বরের বিকেলটা যেন নিজেই হয়ে উঠেছিল এক চলমান চলচ্চিত্র।
ধনধান্য অডিটোরিয়ামের চারদিক আজ ঝলমল করছে আলোয়, কানে বাজছে গুঞ্জন—সিনেমা উৎসবের। ৬ নভেম্বরের বিকেলটা যেন নিজেই হয়ে উঠেছিল এক চলমান চলচ্চিত্র। সূর্য ডুবছে ধীরে ধীরে, আর সেই সময়ই খুলে গেল কলকাতার সেই বহু প্রতীক্ষিত উৎসবের পর্দা—চলচ্চিত্র উৎসবের মহাআরম্ভ।
অভ্যর্থনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—তাঁর উপস্থিতিতে মুহূর্তে যেন স্থির হয়ে গেল সময়। আর সেই আবেগকে প্রাণ দিলেন মঞ্চের দুই সূত্রধার—পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও জুন মালিয়া। প্রাণোচ্ছল সঞ্চালনায় উৎসবের ছন্দে ধনধান্য জেগে উঠল প্রাণবন্ত আলোয়।
এমন এক দীপ্তিময় মুহূর্তেই ঘোষণা করা হল বছরের শ্রেষ্ঠ সম্মান—বঙ্গবিভূষণ। মঞ্চ জুড়ে করতালির ঢেউ উঠল, যখন শত্রুঘ্ন সিনহা ও আরতি মুখোপাধ্যায়কে প্রদান করা হল এই গৌরবময় পুরস্কার। তাঁদের মুখে হাসি, চোখে কৃতজ্ঞতার আলো—এক অনির্বচনীয় মুহূর্ত, যা শুধু স্মৃতিতে নয়, ইতিহাসেও রয়ে যাবে।
“পাঁচ বছর ধরে এই উৎসবে নিয়মিত আসছি। অনেক সময় তো আমন্ত্রণ ছাড়াই নিজে থেকেই চলে এসেছি,” বললেন শত্রুঘ্ন সিনহা। “বঙ্গভূষণ পুরস্কার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন এই খবরটি জানালেন এবং সম্মান প্রদান করলেন, সত্যিই অভিভূত হয়েছি। এটা তো সর্বোচ্চ সম্মান—আমি তাঁর প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
“এই পুরস্কার আমি সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছি,” বললেন আরতি মুখোপাধ্যায়। “আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি কাজকেই গভীর শ্রদ্ধা করি, বিশেষ করে তাঁর সংগীতপ্রেম আমাকে মুগ্ধ করে। আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে দেখিনি এত আন্তরিকভাবে, এত হৃদয় দিয়ে কাজ করতে। তিনি যা করেছেন, তার জন্যই মানুষ তাঁকে চিরকাল মনে রাখবে। এত কাছে কেউ এত কাছে আসেননি আমি যখন তোমার হাত থেকে এই সম্মানটা গ্রহণ করছিলাম আমি তখন সত্যিই কেঁদে ফেলেছিলাম।”
Partha Goswami
06/11/2025







