কার্ডে সিম, কানে মাইক্রো ইয়ারফোন! পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির হদিস

SHARE:

জেরা করে পুলিশ জেনেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন দিয়েই পরীক্ষার্থীদের টোপ দেওয়া হতো—‘হলে বসে উত্তর চান?’

আগ্রহ দেখালেই অফার—অল্প টাকায় সমাধান। সেই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হতো ই-কমার্স সাইট থেকেই এই কার্ড–মোবাইল কিনতে। ধৃত তিন পরীক্ষার্থীরাও সেই সূত্রেই ডিভাইস জোগাড় করেছিলেন।

চাকরির পরীক্ষায় (Police Recruitment Exam) প্রশ্ন ফাঁস রুখতেই কড়াকড়ি বাড়ছে বছর বছর। কিন্তু জালিয়াত চক্রও হাত গুটিয়ে বসে নেই (Technology-based Fraud, )। এবার রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় উঠে এল প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কৌশল—‘এটিএম কার্ড–মোবাইল’ (SIM , Card, Micro Earphone)।

দেখতে হুবহু ডেবিট কার্ডের মতো, অথচ তার ভেতরেই থাকে সিম কার্ড বসানোর ব্যবস্থা। সঙ্গে ক্ষুদ্র ইয়ারফোন। কুর্তি, শার্ট বা প্যান্টের পকেটে রেখে অতি সহজেই বাইরে থাকা লোকজনের সঙ্গে পরীক্ষার হলে বসেই যোগাযোগ সম্ভব।

রবিবারের লিখিত পরীক্ষায় বীরভূম ও নদিয়া—দুটি জেলার তিনটি সেন্টার থেকে এই ধরনের ডিভাইস-সহ তিন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েন। তাদের মধ্যে দু’জন মহিলা। পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া তিনটি কার্ড-মোবাইলের মধ্যে দু’টিতে ছিল শুধু ইনকামিং কলের ব্যবস্থা। তবে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইসটি মিলেছে বীরভূম জেলা স্কুলের সেন্টারে এক মহিলা পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে—যেটিতে ইনকামিং ও আউটগোয়িং, দুই পরিষেবা-ই সক্রিয় ছিল।

পরিদর্শকের নজরে পড়তেই বাজেয়াপ্ত করা হয় ডিভাইসটি। পরীক্ষা করে দেখা যায়, কার্ডটির ভিতরে সিম বসানো, আর পরীক্ষার্থীর কানের ভিতরে গুঁজে রাখা অত্যাধুনিক মাইক্রো-ইয়ারফোন।

দুবরাজপুরের আর এক সেন্টারেও একই কায়দায় কারচুপির চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েন আরও এক মহিলা পরীক্ষার্থী। তার ডিভাইসটিতে ছিল শুধুই ইনকামিং কল। নদিয়ার তেহট্টে এক পুরুষ পরীক্ষার্থীর কাছেও একই ধরনের ‘এটিএম ফোন’ উদ্ধার হয়। তিনি ইনকামিং কলে যে উত্তর শুনছিলেন, পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কোনওভাবেই মিলছে না। সুতরাং প্রশ্ন ফাঁস না হলেও পরীক্ষার মাঝখানে পরীক্ষার্থীদের উত্তর ‘গাইড’ করার চেষ্টা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

জেরা করে পুলিশ জেনেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন দিয়েই পরীক্ষার্থীদের টোপ দেওয়া হতো—‘হলে বসে উত্তর চান?’ আগ্রহ দেখালেই অফার—অল্প টাকায় সমাধান। সেই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হতো ই-কমার্স সাইট থেকেই এই কার্ড–মোবাইল কিনতে। ধৃত তিন পরীক্ষার্থীরাও সেই সূত্রেই ডিভাইস জোগাড় করেছিলেন।

এদিকে সোমবার ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া থেকে গ্রেফতার হওয়া গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছ থেকেও একই ধরনের কার্ড-মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে ধরা পড়লে ন্যূনতম তিন বছরের জন্য কোনও পুলিশ পরীক্ষায় বসার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আর যদি প্রমাণ হয়, কেউ সরাসরি জালিয়াত চক্রের সদস্য—সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করছে আজীবন নিষিদ্ধের কঠোর শাস্তি।

Partha Goswami

02/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई