বৃহস্পতিবার সকালে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্র তথা ভবানীপুর বিধানসভার পরিসংখ্যান জানাল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর।
বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। ডিজিটাইজেশনের কাজও এগোচ্ছে পুরোদমে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচন কেন্দ্র তথা ভবানীপুর বিধানসভার (Bhawanipur assembly) পরিসংখ্যান জানাল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতর। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুর বিধানসভায় অসংগৃহীত ফর্মের (uncollectable enumeration form) সংখ্যা এদিন সকাল পর্যন্ত ছিল ৪১,৪৯৫।
তবে ভবানীপুরের তুলনায় ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিধানসভা কলকাতা বন্দরে (Kolkata Port) অসংগৃহীত ফর্মের সংখ্যা আরও বেশি। সেখানে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৩ হাজার। অসংগৃহীত ফর্মের সংখ্যা সেখানে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার।
ঘটনা হল, গোটা কলকাতাতেই অসংগৃহীত এনুমারেশন ফর্মের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটার, যে ভোটার পাকাপাকি ভাবে অন্যত্র চলে গেছে, যাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বা অন্যান্য কারণে ভোটারকে পাওয়া যায়নি।
ভবানীপুর বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২,০৬,২৯৫। এর মধ্যে ১,৫৭,৫২১টি ফর্ম ডিজিটাইজড হয়ে গেছে। অর্থাৎ ডিজিটাইজড হয়েছে ৭৬.৩৬ শতাংশ ফর্ম। কিন্তু ৪১,৪৯৫ টি ফর্ম আনকালেক্টেবল থেকে গেছে। যা মোট ভোটারের ২০.১১ শতাংশ।
এদিন পর্যন্ত কমিশনের দফতরে যে তথ্য এসেছে তাতে কলকাতা উত্তরে বর্তমান ভোটার তালিকার ৯ শতাংশই মৃত। এখানে মোট ভোটার ১৫, ০৬, ৩৩৯ জন। তার মধ্যে ২২.৯৭ শতাংশ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আনকালেকটেবল। সংখ্যায় তা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ ( 3,46,059)। এর মধ্যে মৃত ভোটার রয়েছে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৫৯১। যা মোট ভোটারের 7.14% শতাংশ।
কৌতূহলের ব্যাপার হল, ১৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সাড়ে ৩ লক্ষ নাম বাদ গেলে কি সমীকরণ বদলে যেতে পারে? অনেকে মনে করছেন, এখনই নিশ্চিত করে তা বলা যাবে না। তবে চমকে দেওয়ার মতোই এই পরিসংখ্যান। গড়ে প্রতি বিধানসভা আসনে ৫০ হাজারে এনুমারেশন ফর্ম আনকালেকটেবল থাকছে। যার মানে কলকাতা উত্তরের প্রতিটি বিধানসভায় ৫০ হাজার করে ভোটার গড়ে কমে যেতে পারে।
কলকাতা দক্ষিণের ব্যাপার স্যাপারও প্রায় একইরকম। ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১,৮৮,৭৯০ টি ফর্ম এখনও পর্যন্ত আনকালেকটেবল। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ৫৫৯৭১ বা ৬.১৭ শতাংশ। এই ভোটাররা হয় মৃত বা পাকাপাকি ভাবে অন্যত্র চলে গেছেন, বা তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম জমা নেওয়া চলবে। এখন দেখার সংখ্যাটা প্রকৃত পক্ষে কোথায় পৌঁছয়।
Partha Goswami
04/12/2025







