ইংল্যান্ড এখন ২০১৫ সালের পর প্রথম অ্যাশেজ জয়ের জন্য মরিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় জয় তো আরও পুরনো স্মৃতি—২০১১। সেখানে রুটের এই ইনিংস শুধু রান নয়, গোটা দলকে আত্মবিশ্বাসও জোগাল।
গাব্বায় (Gabba) অজি-ঢেউ আজ একা হাতে সামলালেন জো রুট (Joe Root)। এতদিন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন অঙ্ক ছুঁতেই চাইত না, আজ সেই ব্যাটই ব্রিসবেনে দাপট দেখাল। অ্যাশেজে (Ashes) ইংল্যান্ডের ওপেনিং ভরাডুবির পর হাল ধরলেন দলের তারকা ব্যাটার, হাঁকালেন অস্ট্রেলিয়ার ময়দানে প্রথম সেঞ্চুরি। যার সুবাদে চাপ সামলে অনেকটাই পায়ের তলার জমি খুঁজে পেয়েছে ইংল্যান্ড।
দিনের শুরুতেই ধাক্কা। মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) পরপর আঘাত হানেন। বেন ডাকেট (Ben Duckett) ফিরলেন শূন্য করে, পরের বলেই বিদায় ওলি পোপ (Ollie Pope)। স্কোরবোর্ড বলছে—৫/২। ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে তখন রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেই জায়গাতেই মাঠে নেমে হাল ধরেন রুট। প্রথমেই জুটি বাঁধলেন জ্যাক ক্রলির (Zak Crawley) সঙ্গে। ক্রলির স্বচ্ছন্দ স্ট্রোক প্লে, রুটের অ্যাঙ্কর রোল—দুইয়ে মিলে ইংরেজদের লড়াইয়ে ফেরার পথ খুলল। কিন্তু ক্রলি ৭৬-এ আউট হতেই ফের সব দায়িত্ব রুটের কাঁধে। কখনও গতি বাড়ালেন, কখনও ধীরস্থির মেজাজে ইনিংস গড়লেন। বল-ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার যে চাপ ছিল, তা কাটিয়ে রান তুললেন বিখ্যাত টাইমিং আর গ্যাপকে কাজে লাগিয়ে।
আজ অজিদের সিম-স্যুইং নয়। সঙ্গীর অভাবই ছিল রুটের আসল সমস্যা। একে একে ফিরে গেলেন অভিজ্ঞরা। প্রথমে বেন স্টোকস (Ben Stokes)। বিস্ময়কর রান-আউট! ব্যর্থ জেমি স্মিথ-ও (Jamie Smith)। আর কেউ সেভাবে সাপোর্ট করতে পারলেন না। তবুও রুট নিজের খেলা পাল্টালেন না। বল বুঝে, ফাঁক বুঝে, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে রান তুললেন। অস্ট্রেলিয়ার লেংথ বদলের চেষ্টা কিংবা স্লেজিং—কিছুই মেজাজ নষ্ট করতে পারেনি। খেললেন ১৮১ বল। আর তারপরই এল বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। রুট হাঁকালেন শতরান—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম! এতদিন ৩০ ইনিংসে না পাওয়া সেঞ্চুরির স্বাদ এবার গাব্বায়। এর আগে সেরা ছিল ৮৯। ২০২১-এ, একই মাঠে।
স্টোকসের হাতে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর থেকে রুট দ্বিতীয় ইনিংসের (second phase) ব্যাটসম্যান হিসেবে দারুণ ধারাবাহিক। ২০২২ থেকে করেছেন ৪ হাজারের বেশি রান, ১৬টি শতরান। তবু ‘অস্ট্রেলিয়া-অভিশাপ’পিছু ছাড়েনি। সিরিজ শুরুর আগে নিজেই বলেছিলেন—‘এবার এই রেকর্ড পাল্টাতেই হবে!’ ব্রিসবেনের ময়দানে সেই প্রতিজ্ঞাই সত্যি হল।
ইংল্যান্ড এখন ২০১৫ সালের পর প্রথম অ্যাশেজ জয়ের জন্য মরিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় জয় তো আরও পুরনো স্মৃতি—২০১১। সেখানে রুটের এই ইনিংস শুধু রান নয়, গোটা দলকে আত্মবিশ্বাসও জোগাল।
Partha Goswami
04/12/2025







