‘শুধু অনুপ্রবেশ রুখব না, যারা ঢুকেছে তাদের দেশের বাইরে পাঠাব’, ২৬-এর লক্ষ্য স্থির করলেন শাহ

SHARE:

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহের সাফ কথা – বাংলার মানচিত্র তো বটেই, দেশের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারের। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাঁদের সরকার বাংলায় এলে পরিবর্তন হবে বলেই দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুধু অনুপ্রবেশ রুখব না, যারা ঢুকেছে তাদের দেশের বাইরে পাঠাব', ২৬-এর লক্ষ্য  স্থির করলেন শাহ | amit shah slams tmc govt from his press conference at  kolkata

তিনদিনের রাজ্য সফরের (West Bengal Tour) শুরুতেই কলকাতা থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ফের অনুপ্রবেশ (Illegal Immigrants) ইস্যুতে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার (TMC Govt) রাজ্যকে কার্যত অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়স্থল বানিয়ে ফেলেছে – যার প্রভাব শুধু রাজ্যের ওপর নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার উপরও পড়ছে।

অমিত শাহের (Amit Shah) দাবি, বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্রের পাশাপাশি জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, আর সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার নীরব সমর্থন দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এই অনুপ্রবেশ শুধু এখানকার মানুষের সমস্যা নয়, দেশের সুরক্ষার জন্যও গুরুতর বিপদ।”

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (WB Polls 2026) দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলায় বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “ক্ষমতায় এলে শুধু অনুপ্রবেশ রোখাই নয়, যারা বেআইনিভাবে ঢুকেছে তাদের চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানো হবে।”

নাম করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি আক্রমণ করে অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, সীমান্তে ফেন্সিংয়ের (Border Fencing) জন্য জমি দিতে রাজ্য সরকার কেন গড়িমসি করছে। তাঁর অভিযোগ, “কোন রাজ্য সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি দিতে চায় না – আপনাদের সরকারই দেয় না। অনুপ্রবেশ হলে রাজ্য পুলিশ কেন তাদের খুঁজে বার করে না? কেন অন্য রাজ্যে এই সমস্যা নেই?”

শাহের বক্তব্যে, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই অনুপ্রবেশ বেশি হওয়ার কারণ রাজ্য সরকারের ‘অনুপ্রবেশ-সহনশীলতা’। তাঁর কথায়, এই নীতির ফলেই দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সিএএ (CAA) প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করতে চাইলে রাজ্য সরকার বিরোধিতা করে, অথচ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোখার দায় পুরোপুরি বিএসএফের (BSF) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই দ্বিচারিতা রাজ্যবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অমিত শাহ আবার মনে করানোর চেষ্টা করেন যে – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছেন তাই কোনও ইস্যুতেই মুখ খুলছেন না। শাহের নিশানা, ভোটব‍্যাঙ্ক হারানোর ভয় পান মমতা। তোষণের রাজনীতি করে টিকে থাকতে চান। এই প্রসঙ্গেই রাজ্যবাসীকে তাঁর বার্তা, এমন মজবুত সরকার আনুন, যাতে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই ফের এক বার কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে সামনে আনতে চাইছে বিজেপি। সেই ইঙ্গিতই মিলল অমিত শাহের এই সাংবাদিক বৈঠকে।

Partha Goswami
30/12/2025
Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई