‘৩১ বছরের নির্বাসনের সমাপ্তি কি ঘটবে?’ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর প্রশ্ন তুললেন তসলিমা

SHARE:

তাঁর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার বিএনপি-ঘনিষ্ঠ মৌলবাদী সংগঠনগুলির চাপেই তাঁকে প্রথমে ১৯৯৪ সালে সুইডেনে পালাতে হয়। পরে এক দশক পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।

Will Khaleda's death end my 31-year exile?' Taslima Nasrin asks

বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) মৃত্যুর পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাহিত্যিক সেন্সরের প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে আনলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে তিনি স্মরণ করালেন, কী ভাবে খালেদা জিয়ার শাসনকালেই তাঁর একের পর এক বই নিষিদ্ধ হয়েছিল এবং তাঁকে দেশছাড়া হতে হয়েছিল।

মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) তসলিমা লেখেন, তিনি (খালেদা জিয়া) একজন ধর্মনিরপেক্ষ, মানবতাবাদী, নারীবাদী, মুক্তচিন্তক লেখকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলা করে জিহাদিদের পক্ষ নিয়েছিলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিলেন। আর শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্যায় ভাবে নিজের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তসলিমার দাবি, খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) শাসনকালে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। সেই স্মৃতি তুলে ধরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন – খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর কি অন্তত তাঁর নিষিদ্ধ বইগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে? তাঁর বক্তব্য, যদি এই মৃত্যুর পরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।

তসলিমা নাসরিন স্মরণ করান, ১৯৯৩ সালে তাঁর উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রথম নিষিদ্ধ হয়। এরপর একে একে ‘উতল হাওয়া’ (২০০২), ‘ক’ (২০০৩) নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই নিষেধাজ্ঞাগুলির পাশাপাশি মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকি এবং সহিংসতার কথাও তুলে ধরেন তসলিমা।

তাঁর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার বিএনপি-ঘনিষ্ঠ মৌলবাদী সংগঠনগুলির চাপেই তাঁকে প্রথমে ১৯৯৪ সালে সুইডেনে পালাতে হয়। পরে এক দশক পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। সেই প্রেক্ষিতে খালেদার মৃত্যুর পরই তসলিমার প্রশ্ন – এই মৃত্যু কি আমার ৩১ বছরের নির্বাসনদণ্ডের সমাপ্তি ঘটাবে? নাকি এক শাসকের অন্যায় আরেক শাসক যুগের পর যুগ বহন করে চলবেন?

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ভোরে প্রয়াত হয়েছেন খালেদা জিয়া। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন, পাশাপাশি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন। ২০০৬ সালের পর তিনি ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিএনপি-র উপর তাঁর প্রভাব অটুট ছিল।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি এই নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। সম্প্রতি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনেকের মতে, তিনিই আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন।

Partha Goswami

30/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई