বুথ আধিকারিকরা সেই কাগজ দেখেও তাঁদের ফিরিয়ে দেন এবং জানান যে সিউড়িতে জেলাশাসকের দফতর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। অসুস্থ শরীরে বোলপুর থেকে সিউড়ি যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় চোখের জলেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁদের।
আইনি লড়াই, ট্রাইব্যুনালের (West Bengal SIR Tribunal) রায় এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ – এত কিছুর পরেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল নন্দলাল বসুর নাতি (Nandalal Bose Grandson) সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রীকে। তবে খবরটি চাউর হতেই নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত সিইও (CEO) দফতরের হস্তক্ষেপে বিকেল ৫টায় তাঁদের ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বোলপুরের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন অশীতিপর সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তাঁদের সাফ জানিয়ে দেন যে, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। দম্পতি তখন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের মুচলেকা দেখান, যেখানে তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকারের কথা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। অভিযোগ, বুথ আধিকারিকরা সেই কাগজ দেখেও তাঁদের ফিরিয়ে দেন এবং জানান যে সিউড়িতে জেলাশাসকের দফতর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। অসুস্থ শরীরে বোলপুর থেকে সিউড়ি যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় চোখের জলেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁদের।
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে এই খবর পৌঁছনো মাত্রই মহকুমা শাসকের দফতরে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “রিটার্নিং অফিসারের বোঝার ভুলের কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক হয়রানি হয়েছে।” দ্রুত ভুল সংশোধন করে ওই দম্পতিকে বিকেল ৫টার পর বুথে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন তথ্যগত ত্রুটির কারণে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। এরপরই তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। এপ্রিলের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, সুপ্রবুদ্ধ সেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। শুনানিতে হাজিরা দিয়ে সব নথি জমা দিলেও খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ (Under Consideration) ক্যাটাগরিতে ছিল। ট্রাইব্যুনাল ধাপে ধাপে যে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করছিল, তাতে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও স্থানীয় আধিকারিকদের বিভ্রান্তিতে এই হয়রানি তৈরি হয়।
তবে এখন ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ায় খুশি নন্দলাল বসুর পরিবার। তবে প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন একজন সাধারণ নাগরিককে (বিশেষত প্রবীণ দম্পতিকে) এভাবে বুথ থেকে ফিরে যেতে হল? কমিশনের এই তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও আধিকারিকদের প্রশিক্ষণের অভাব নিয়ে সরব হয়েছে নাগরিক সমাজ। আপাতত কমিশনের আশ্বাসে বিকেল ৫টায় ফের বুথমুখী হচ্ছেন সুপ্রবুদ্ধবাবু ও তাঁর স্ত্রী।
Partha Goswami
23/04/2026







