গত কয়েকটা দিন ভোটমুখী বাংলায় সুরাপ্রেমীদের (FL Shop) মন যেমন আনচান করছিল, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে তাতে কিছুটা জল ঢালল আবগারি দফতর।
প্রথম দফার ভোট মিটতেই (West Bengal Assembly Election 2026) ‘ড্রাই ডে’-র খাঁড়া থেকে আপাতত মুক্তি। গত কয়েকটা দিন ভোটমুখী বাংলায় সুরাপ্রেমীদের (FL Shop) মন যেমন আনচান করছিল, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে তাতে কিছুটা জল ঢালল আবগারি দফতর। রাজ্যের সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ও বারগুলো আবার খুলে দেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিক্রেতা এবং ক্রেতা—উভয় পক্ষই। তবে এই স্বস্তি বড়ই ক্ষণস্থায়ী!
আড়াই দিনের ‘ম্যারাথন’
শুক্রেবার বেলা ১১টা থেকে দোকান খুললেও, এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী নয়। দ্বিতীয় দফার (2nd Phase Election) ভোটের কারণে শনিবার, ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকেই ফের তালা ঝুলবে সমস্ত মদের দোকান ও বারে। অর্থাৎ, সুরাপ্রেমীদের হাতে ‘স্টক’ করার জন্য রয়েছে মাত্র দেড় দিন। এই সময়ের মধ্যেই যাঁদের যা প্রয়োজন, তা সংগ্রহ করে নিতে হবে। দোকানিরা জানাচ্ছেন, যেহেতু পরের দফাতেও লম্বা সময়ের জন্য দোকান বন্ধ থাকবে, তাই অনেক ক্রেতাই আগাম কেনাকাটায় ঝুঁকেছেন।
কী ঘটেছিল আগে?
এবারের ভোট যেন মদের দোকানের ‘ক্যালেন্ডার’ ওলটপালট করে দিয়েছে। সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার নিয়ম থাকলেও, এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৯৬ ঘণ্টা। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। দ্য ওয়ালের প্রশ্নের উত্তরে খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালও বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘কেন কলকাতায় মদের দোকান বন্ধ করা হল, আবগারি কমিশনের কাছে জানতে চাইব!’’
দোকানি ও ক্রেতাদের স্বস্তি
শুক্রবার সকাল ১১টা বাজতেই শহরের বিভিন্ন মদের দোকানের সামনে দেখা গেল পরিচিত সেই দৃশ্য— ক্রেতাদের ভিড়। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাচ্ছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় বিক্রেতাদের ব্যবসাতেও বড়সড় প্রভাব পড়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানালেন, “৪৮ ঘণ্টার বেশি দোকান বন্ধ থাকায় রোজগারপাতি কার্যত লাটে উঠেছিল। আজ দোকান খুলল, কিছুটা সুরাহা হবে আশা করছি।”
ভোটের মরসুমে মদের দোকান খোলা এবং বন্ধের এই লুকোচুরি খেলা আপাতত চলতেই থাকবে। তবে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার আগে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ না নিলে, পরের দফার ভোটের আগে ফের শুকনো মুখে দিন কাটাতে হতে পারে সুরাপ্রেমীদের—এই আশঙ্কাই এখন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।






