কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্যের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে
লেহ-তে শান্তিপূর্ণ বনধকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু এবং ৭০ জনের বেশি আহত হওয়ার কয়েক দিন পরেই শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অভিযোগ, তিনি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দিয়েছিলেন। তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি ওয়াংচুককে জেলে পাঠানো হবে নাকি অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবারের ঘটনার পর লেহ-তে কারফিউ জারি করা হয়। ওয়াংচুক তাঁর টানা দু’সপ্তাহের অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওয়াংচুকের ‘উসকানিমূলক মন্তব্য’ এবং কিছু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত গোষ্ঠীর ভূমিকা বিক্ষোভকে উত্তপ্ত করেছে। সরকারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারি প্রতিনিধি ও লাদাখের সংগঠনগুলির মধ্যে চলমান আলোচনাকে ব্যাহত করতেই এই ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
লাদাখের শিক্ষা ও সমাজকর্মী ওয়াংচুক প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস লাদাখের বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন, Foreign Contribution (Regulation) Act (FCRA) লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাঁর এনজিও’র। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই মাস আগে শুরু হওয়া এই তদন্তে ওয়াংচুকের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সফর-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে লাদাখকে পূর্ণ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ সূচি সম্প্রসারণের দাবিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগস্ট মাসে লাদাখ প্রশাসন HIAL-কে বরাদ্দ করা জমি বাতিল করে। স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছে যে এটি সংবিধানিক নিরাপত্তা দাবিকারীদের “কণ্ঠ রোধের” প্রচেষ্টা।
পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনে বুধবার, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লাদাখের রাজধানী লেহ। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে বিজেপির পার্টি অফিসের ওপর। পাল্টা কড়া ভূমিকা নেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। চার জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সোনমের উস্কানিমূলক বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উত্তেজিত জনতা অনশনস্থল থেকে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের পাশাপাশি লেহ-এর সরকারি দফতরে হামলা চালায়। এটা স্পষ্ট যে, সোনমের উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণেই জনতা প্রভাবিত হয়েছেন।







