ভারতে এর আগে কোন প্রকল্পে এত বিপুল সংখ্যায় সরকারি আধিকারিক এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা দায়েরের নজির নেই। তাদের বিরুদ্ধে জলপ্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহে ভারত সরকারের মেগা প্রকল্প জল জীবন মিশনে নানা অনিয়ম আগেই ধরা পড়েছিল। তদন্ত শেষে ১৬টি রাজ্যের মোট ৫৯৬ জন ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিক এবং ৮২২ ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। সব মিলিয়ে ১৬ হাজারের বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
ভারতে এর আগে কোন প্রকল্পে এত বিপুল সংখ্যায় সরকারি আধিকারিক এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা দায়েরের নজির নেই। তাদের বিরুদ্ধে জলপ্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অফিসার ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল যে ১৬ রাজ্যে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে সেগুলির সিংহভাগই বিজেপি শাসিত রাজ্য।
তালিকায় উপরের দিকে নাম রয়েছে বিহারের। ওই রাজ্যে গত কুড়ি বছর জনতা দল ইউনাইটেড এবং বিজেপির জোট সরকার ক্ষমতায়। রাজ্যের চলতি বিধানসভা নির্বাচনে জল প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি বিরোধীরা হাতিয়ার করেছে। বিহারে তদন্তে দেখা গিয়েছে সরকারি তালিকায় যে পরিবারগুলিতে জলের লাইন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়, বাস্তবে সেখানে কেউ বাস করেন না। এমনকী বাড়ি ঘরেরও অস্তিত্ব মেলেনি। বিহারের নীতীশ কুমারের জমানায় এই দুর্নীতিকে অনেকেই লালু প্রসাদের শাসনে পশু খাদ্য কেলেঙ্কারি সঙ্গে তুলনা করছে। কেলেঙ্কারিতে দেখা গিয়েছিল যে সমস্ত ট্রাক-লরিতে করে গরু ছাগলের খাবার সরকারি খামারে সরবরাহ করা হয়েছে বলে নথিপত্রে উল্লেখ ছিল সেগুলি আসলে মোটর সাইকেল ভ্যান গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর। অস্তিত্বহীন পশু খামারে খাবার সরবরাহের ভুয়ো বিল জমা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল।
ওই ১৬ রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নামও আছে। তবে বাংলায় কোন ইঞ্জিনিয়ার বা আধিকারিক অভিযুক্ত নন। মামলা দায়ের হয়েছে দেড় শতাধিক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
দেশে প্রতিটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ‘হর ঘর জল’ স্কিম চালু করে বছর দশেক আগে। চলতি বছরে সেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি বেশিরভাগ রাজ্য। সেই কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২৮ সাল করা হয়েছে। জল সরবরাহ মন্ত্রকের আরজি মেনে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রকের একটি পর্যবেক্ষণকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়ে
জলজীবন মিশন প্রকল্পে। অর্থ মন্ত্রক জানাঢ়, ওই প্রকল্পে বিপুল অর্থ নয় ছয় হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, দিল্লিতে এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সব রাজ্যকে বলা হয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী, অফিসার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে। মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে লোকায়ুক্তকে তদন্তের ভার দেওয়া যেতে পারে, বলা হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশিকায়।
Partha Goswami
10/11/2025







