মধ্যপ্রদেশে খাদ্যসংকটের ছবি ভয়াবহ, ৬২,৯৪৪ কোটি টাকার ঋণ, গুদামে ধান পচে দুর্গন্ধ বেরনোর জোগাড়

SHARE:

মধ্যপ্রদেশ স্টেট সিভিল সাপ্লাইজ কর্পোরেশন (NAN)–এর মাথায় বিপুল ৬২,৯৪৪.৭১ কোটি ব্যাঙ্কঋণের বোঝা। প্রতিদিন শুধু সুদ (Debt) পরিশোধ করতেই খরচ হচ্ছে ১৪.১৭ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ভয়াবহ বাস্তব ছবি উঠে এল বিধানসভায় (Assembly)। মধ্যপ্রদেশ স্টেট সিভিল সাপ্লাইজ কর্পোরেশন (NAN)–এর মাথায় বিপুল ৬২,৯৪৪.৭১ কোটি ব্যাঙ্কঋণের বোঝা (Food Supply Failure)। প্রতিদিন শুধু সুদ (Debt) পরিশোধ করতেই খরচ হচ্ছে ১৪.১৭ কোটি টাকা।

এই বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহমন্ত্রী গোবিন্দ সিং রাজপুত। প্রশ্ন তুলেছিলেন বিধায়ক সুশীলকুমার তিওয়ারি। মন্ত্রীর দাবি, সরকার নিয়মিত সুদ দিচ্ছে। তবে এমএসপি কেনা এবং ‘ডিসেন্ট্রালাইজড পার্চেস অ্যান্ড মিলিং’-এর জটিলতা থেকেই এই ঋণদায় তৈরি হয়েছে। কার দায়? প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রীর সাফ কথা, “প্রশ্নই ওঠে না।”

গুদামে ৯৩৯ টন ধান পচে দুর্গন্ধ, রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা

সিরমৌরের উমরি গুদামে প্রায় ৯৩৯.০৪৪ মেট্রিক টন ধান এক বছর ধরে পচে পড়ে আছে। দুর্গন্ধে কার্যত নাক-মুখ ঢেকে চলছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক দিব্যরাজ সিং। বলছেন, “এক বছর ধরে পচা ধান সরানো হয়নি কেন? যদি এর ফলে রোগ ছড়ায়, দায় নেবে কে?”

মন্ত্রী মানতে বাধ্য হয়েছেন, ধানটি কেনা হয়েছিল ২০২০-২১ সালে, মিলিং শেষ হওয়ার কথা ছিল ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ। সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কেন্দ্র অতিরিক্ত সময় দিতে নারাজ হয়।

ই-নিলামে বিক্রি, কিন্তু কোম্পানি ধান তুলল না

তারপর সরকার ই-নিলামের মাধ্যমে ৩৬৮২ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করে জয় আম্বে অ্যাগ্রোটেক–এর কাছে, প্রতি কুইন্টাল ৯৩৫ টাকা দরে। কিন্তু কোম্পানি তুলেছে মাত্র ২৭৪২.৯৫৬ মেট্রিক টন। বাকি ৯৩৯.০৪৪ মেট্রিক টন পড়ে থাকে গুদামে— এখন তা সম্পূর্ণ পচে গিয়েছে।

কোম্পানিকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে সব ধান তুলতে বলা হয়েছিল। তারা মানেনি। অবশেষে ৭ নভেম্বর সরকার শো-কজ নোটিস দেয়। তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছে।

‘ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে’, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য, ভেঙে পড়া গুদাম ব্যবস্থাপনা, এবং কৃষক–গরিব ভোক্তাদের নিয়ে বিপদের আশঙ্কাকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন এক গভীর নীতিগত পক্ষাঘাতের লক্ষণ হিসেবে। তাদের মতে, কর্পোরেশনের অবস্থা এখন “ব্রেকিং পয়েন্টে”।

বস্তুত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার গর্ব করে বলছে, গত এক দশকে দেশে ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তোলা হয়েছে এবং চরম দারিদ্র্য ৮০% কমেছে। কিন্তু একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিপুল সংখ্যক মানুষ দিনে দু’বেলা পেট ভরে খাবার জোগাড় করতে পারেন না।

ওই রিপোর্টে নীতি আয়োগ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, মোদী সরকারের ১১ বছরে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩ সময়ে ভারতের চরম দারিদ্র্যের হার ২৭.১% থেকে কমে ৫.৩% হয়েছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩৪.৪৭ কোটি থেকে নেমে ৭.৫২ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু, “Food Deprivation: A Thali Index Reveals What Poverty Estimates Do Not” শীর্ষক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রচলিত দারিদ্র্য পরিসংখ্যান অনেক ভারতীয়ের পুষ্টিহীনতাকে উপেক্ষা করে, যারা দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও পর্যাপ্ত খাবার পায় না।

Partha Goswami

02/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई