কেন্দ্রীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক রক্তদাতাকে দিতে হয় ১০০ টাকার জলখাবার। সেই খরচের বিল ব্লাড ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যভবনে (Health Department, West Bengal)। অনুমোদন মিললেই ফেরত পাওয়ার কথা।
রক্তদান জীবনদান (Blood donation camps)—এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে বরাবরই সক্রিয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (Voluntary organizations)। সারা বছর জুড়েই চলে রক্তদান শিবিরের আয়োজন।
কিন্তু সাম্প্রতিক ছবি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রক্তদাতা মহলে। অভিযোগ, রক্তদাতাদের টিফিনের বিলের টাকা আটকে থাকায় ধাক্কা খাচ্ছে রাজ্যের রক্তদান আন্দোলনই।
কেন্দ্রীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক রক্তদাতাকে দিতে হয় ১০০ টাকার জলখাবার। সেই খরচের বিল ব্লাড ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যভবনে (Health Department, West Bengal)। অনুমোদন মিললেই ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সেই বিল এখন মাসের পর মাস পড়ে রইছে ‘ফাইলে’। ফলে রক্তদাতা সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ অসহনীয় হয়ে উঠছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের রাজ্য সম্পাদক অপূর্ব ঘোষের কথায়, “আগে দেড়-দু’মাসে টাকা এসে যেত। এখন চার-পাঁচ মাস ধরে এক টাকাও মেলেনি। পরিস্থিতি ভয়ানক।”
রক্তদান আন্দোলনের অভিজ্ঞ কর্মী দীপঙ্কর মিত্র জানাচ্ছেন, বড় সংগঠনগুলিরই বকেয়া ১৬–১৭ লক্ষ টাকা। অগণিত ছোট ও মাঝারি সংগঠনের পাওনা মিলিয়ে অঙ্কটি পেরিয়ে গিয়েছে কোটি টাকা। ফলে অনেক সংস্থাই শিবির কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বাস—জলখাবারের বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সংগঠনগুলির বক্তব্য, আশ্বাসে কাজ হচ্ছে না, মাঠে নেমে হোঁচট খাচ্ছে আসল কাজই। টাকা না পেলে শিবির করা সম্ভব নয়। আর শিবির না হলে বাড়বে রক্তের সংকটই।
রক্তদান আন্দোলনের পথিকৃৎদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে উৎসবের মরশুমেই দেখা দিতে পারে তীব্র রক্ত সংকট।
Partha Goswami
04/12/2025







