আদালতের নির্দেশে অবশেষে গ্রুপ সি ও ডি-র ৩৫১২ জন দাগি শিক্ষাকর্মীর সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি। রোল নম্বর, পোস্ট, অভিভাবকের নাম ও জন্মতারিখ-সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল।
স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) অবশেষে প্রকাশ করল গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি–র দাগি (Tainted Candidates) শিক্ষাকর্মীদের সম্পূর্ণ তালিকা। মোট ৩৫১২ জন রয়েছেন এই তালিকায়। আগের মতো শুধু নাম ও রোল নম্বর নয়, এবার আদালতের নির্দেশ মেনে রোল নম্বর, পোস্ট (Post Details), অভিভাবকের নাম (Guardian’s Name), জন্মতারিখ (Date of Birth), সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এই দাগিরা এতদিন স্কুলে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি (Group C & Group D) পদের চাকরি করছিলেন। আদালতের ভাষায়, তাঁরা “বেআইনিভাবে চাকরি প্রাপ্ত” (Illegally Appointed)। আগে আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হলেও হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশের পরেই বিস্তারিত তালিকা সামনে আনতে বাধ্য হল কমিশন।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসল SSC
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগে যাঁরা কমিশনের সুপারিশে চাকরি পেয়েছেন এবং পরে ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতেই হবে।
তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল,
- শুধু নাম ও রোল নম্বর দিয়ে কোনও ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না
- একই নামে বহু প্রার্থী থাকতে পারে
- তাই ডিটেলস ছাড়া শনাক্তকরণ (Identification) অসম্ভব
- এই মন্তব্যের পরই শুক্রবার কমিশন প্রকাশ করে বিশদ তালিকা।
কী কী তথ্য দেওয়া হয়েছে?
SSC–র প্রকাশিত নতুন তালিকায় উল্লেখ রয়েছে—
- রোল নম্বর (Roll Number)
- নাম
- কোন পোস্টে চাকরি পেয়েছিলেন—ক্লার্ক, গ্রুপ ডি বা পিয়ন (Post Category)
- জন্মতারিখ (Date of Birth)
- অভিভাবকের নাম (Parent’s Name)
এসব তথ্য দিয়েই হাইকোর্ট নির্দেশিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার পর শুরু পথচলা
এর আগেই গত ৩০ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল ১,৮০৪ জন দাগির নাম প্রকাশ করতে। পরে আরও দু’জনের নাম যোগ হয়। তবে তখনও শুধু নাম ও রোল নম্বর ছিল।
এরপর হাইকোর্ট জানায়, এভাবে কারও পরিচয় শনাক্ত করা যাবে না। তাই ‘Full Particulars’ দিয়ে তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও অলোক আরাধের বেঞ্চও কড়া ভাষায় কমিশনকে জানায়, দাগিদের সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করতে হবে (Complete Disclosure of Tainted Candidates)। তিনদিনের মধ্যে SSC সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়।
কেন আবার নতুন তালিকা?
হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, ২০১৬ এবং ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তির রোল নম্বর ভিন্ন। তাই শুধু নাম দিয়ে পরিচয় নির্ধারণ সম্ভব নয়। এছাড়া ওএমআর মিসম্যাচ (OMR Mismatch), র্যাঙ্ক জাম্প (Rank Jump), আউট–অফ–প্যানেল (Out of Panel) সহ বহু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ফলে কারা দাগি, তা পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো জরুরি।
কী বার্তা SSC–র এই পদক্ষেপে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের চাপে SSC–র এই পদক্ষেপ। দুর্নীতি (Corruption in Recruitment) নিয়ে কমিশনের অবস্থান আরও চাপে পড়ল। ভবিষ্যতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Transparent Recruitment) নিশ্চিত করতে হবে।
আর SSC–র সামনে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,এই দাগিদের বাদ দিলে ‘যোগ্য’ (Eligible Candidates) তালিকায় কারা সুযোগ পাবেন, আদালতের সেই নির্দেশও কার্যকর হবে কীভাবে।
Partha Goswami
05/12/2025







