‘ভারতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হবে না,’ আমেরিকার প্রবল চাপ সত্ত্বেও ভারতে এসে স্পষ্ট জানালেন ভ্লাদিমির পুতিন।
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি ও পরিবহণ করিডর নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন।
আমেরিকার চোখ রাঙানিকে তোয়াক্কা করলেন না পুতিন-মোদী। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভারতের জ্বালানি (fuel supply) চাহিদা মেটাতে মস্কো ভবিষ্যতেও “অবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ” (uninterrupted shipments) বজায় রাখবে।
পুতিন বলেন, “রাশিয়া ভারতের জন্য নির্ভরযোগ্য তেল, গ্যাস, কয়লা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহকারী (reliable supplier)। এদেশের দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা অর্থনীতির জন্য আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পাঠাতে প্রস্তুত।”
পাঁচ দশকের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা
সংবাদ সম্মেলনে পুতিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত কথা তোলেন। জানান, গত পঞ্চাশ বছর ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, নৌসেনার আধুনিকীকরণে (modernisation) সাহায্য করেছে মস্কো। শুক্রবার যে আলোচনা হয়েছে, তাতে ইতিবাচক দিকই উঠে এসেছে এবং এনিয়ে দুদেশই সন্তুষ্ট। এতে সম্পর্ক আরও গভীর হবে আগামিদিনে।
বিদেশনীতি নিয়ে দুই দেশের ঐক্য
পুতিন আরও জানান, BRICS এবং SCO-র মতো বহু-পাক্ষিক মঞ্চেও ভারত ও রাশিয়া একই নীতিতে দাঁড়িয়ে থেকেছে। তাঁর কথায়, “দুটি দেশই স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি (foreign policy) অনুসরণ করে। আমরা একযোগে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতি রক্ষা করছি।”
ইন্টারন্যাশনাল করিডর তৈরিতে জোর
দুই দেশের বাণিজ্যগত যোগসূত্র আরও জোরদার করতে পুতিন জানান, নতুন পরিবহণ করিডর (transport corridor) গঠনে কাজ এগোচ্ছে। রাশিয়া বা বেলারুস থেকে ভারত মহাসাগরের দিকে নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (North-South Corridor) তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ইউরেশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বাণিজ্য বহু গুণ বাড়বে।
নিউক্লিয়ার এনার্জিতে বড় সহযোগিতা
নিউক্লিয়ার শক্তি (nuclear energy) নিয়ে ভারত–রাশিয়া যৌথ প্রকল্পের কথা এদিন তুলে ধরেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (nuclear plant) তৈরির প্রকল্পে আমরা কাজ করছি। ছ’টি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ জালে যুক্ত হয়েছে।” এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিষ্কার জ্বালানি কাঠামোতে (clean energy infrastructure) এটি বড় ভূমিকা নেবে।
ভারতের জন্য বার্তা, ‘জ্বালানি নিয়ে চিন্তা নেই’
মার্কিন চাপের মধ্যেও পুতিনের এই আশ্বাস রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। রাশিয়া যে ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সঙ্গী হিসেবে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবে, বৈঠকের বার্তা থেকে তা স্পষ্ট।
Partha Goswami
05/12/2025







