বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হীরাপুর থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, বুথ পরিদর্শন সেরে বেরোনোর পথেই তাঁর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়।
প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হীরাপুর থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, বুথ পরিদর্শন সেরে বেরোনোর পথেই তাঁর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়।
ভোটের শুরু থেকেই নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ঘুরছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হীরাপুর থানা এলাকার রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে যখন তিনি বেরিয়ে আসছিলেন, সেই মুহূর্তেই আচমকা তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে পিছন থেকে একের পর এক পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তড়িঘড়ি হীরাপুর থানায় গিয়ে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি প্রার্থী। ভোটের দিনে প্রার্থীর গাড়িতে এহেন হামলার ঘটনা কেন ঘটল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে এই হামলার পেছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই অশান্তি চরমে ওঠে মুর্শিদাবাদের নওদায়। বুধবার রাত থেকেই থমথমে ছিল এলাকা, কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল হতেই তা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে লক্ষ্য করে হামলা, তাঁর গাড়ি ভাঙচুর এবং তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে চরম হাতাহাতি— সব মিলিয়ে নওদার পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় নওদার শিবনগর এলাকা থেকে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়ুন কবীর যখন ওই এলাকা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাঁর পথ আটকায় একদল উত্তেজিত জনতা। তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে একদল কর্মী-সমর্থক তাঁর গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গতিরোধ করে বলে অভিযোগ।
মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। হুমায়ুন কবীরের কনভয়ে থাকা একটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, পোলিং এজেন্টের গাড়ি লক্ষ্য করেও বৃষ্টির মতো ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠির ঘায়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণের টানটান উত্তেজনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দিয়ে হুমায়ুন কবীরকে ওই বিক্ষোভস্থল থেকে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
Partha Goswami
23/04/2026







