কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ। ভিডিও ফুটেজ দেখে ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এলাকায় নামানো হলো কিউআরটি। প্রথম দফার ভোটে রণক্ষেত্র দক্ষিণ দিনাজপুর।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণে (1st Phase Polling) রণক্ষেত্র দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ (Kumarganj)। তবে এবার কেবল অভিযোগেই সীমাবদ্ধ রইল না বিষয়টি, সরাসরি কার্যকর হল আইনি পদক্ষেপ।
বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে পুলিশের সামনেই কিল-চড়-ঘুষি মারার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। চলতি নির্বাচনে কোনও প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় এটিই প্রথম বড় মাপের গ্রেফতারি।
ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতারি
কুমারগঞ্জের ২৪ নম্বর বুথ চত্বরে বিজেপি প্রার্থীকে হেনস্থা করার ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। ওই ফুটেজে যাঁদের স্পষ্টভাবে মারধর করতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রার্থীর নিরাপত্তায় কোনও আপস করা হবে না। পাশাপাশি, এই ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
ঘটনাস্থলে QRT ও নিরাপত্তা
শুভেন্দু সরকারের ওপর হামলার পর কুমারগঞ্জের ওই এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুনরায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য দ্রুত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি (QRT)।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে পুরো কুমারগঞ্জ ব্লক।
প্রার্থীর নিরাপত্তা সঙ্কট
এদিন সকাল থেকেই কুমারগঞ্জের ২৪ নম্বর বুথে উত্তাপ চড়ছিল। অভিযোগ ছিল, বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বসতে বাধা দিচ্ছে শাসকদলের কর্মীরা। খবর পেয়ে প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে এবং তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা এবং কুইক রেসপন্স টিমের সময়মতো না পৌঁছানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিল কমিশন।
বাংলার অন্যান্য প্রান্তের চিত্র
কেবল কুমারগঞ্জ নয়, প্রথম দফার ভোটে অশান্তির আঁচ ছড়িয়েছে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও। বীরভূমের লাভপুর বিধানসভার ভ্রমরকল গ্রামে বিজেপির ইলেকশন এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি।
অন্যদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে ঘিরে টাকা বিলির অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি
অশান্তি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহেও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের খামতি নেই। বেলা ৩ে পর্যন্ত রাজ্যে গড়ে ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। একদিকে প্রখর দাবদাহ আর অন্যদিকে বুথে বুথে ‘পলিটিক্যাল ক্লাইম্যাক্স’— সব মিলিয়ে ২০২৬-এর প্রথম দফার নির্বাচন সরগরম।
তার মধ্যে কুমারগঞ্জের এই দ্রুত গ্রেফতারি বাকি দফার ভোটগ্রহণের আগে এক কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Partha Goswami
23/04/2026







