বীরভূমে এবার আর শোনা গেল না অনুব্রত মণ্ডলের সেই চেনা হঙ্কার! ‘গুড়-বাতাসা’ বা ‘চড়াম চড়াম’ ঢাকের দাওয়াই ছেড়ে হাসিমুখে মেয়ে সুকন্যাকে নিয়ে ভোট দিলেন কেষ্ট।
বঙ্গে ভোটের দিন বীরভূমের সেই চেনা ছবিটাই উবে গিয়েছে। যে জেলায় এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ‘চড়াম চড়াম’ ঢাকের বাদ্যি কিংবা ‘গুড়-বাতাসা’ দাওয়াই ছাড়া ভোটের সকাল শুরু হত না, সেই কেষ্টগড় বৃহস্পতিবার দেখল সম্পূর্ণ অন্য চিত্র। প্রথম দফার ভোটে কোথাও কোনও ধমক-চমক নেই। মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের ওপর রেগে লাল হওয়ার বদলে হাসিমুখে কথা বললেন অনুব্রত মণ্ডস। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তাঁর স্পষ্ট দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন চেয়েছিলেন, বাংলায় তেমনই শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে।”
শান্ত বীরভূম, আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত
বৃহস্পতিবার বেলা বাড়তেই মেয়ে সুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে বোলপুর ভাগবত নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন অনুব্রত। ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ভোট দিয়ে খুব ভাল লাগছে। বীরভূমের ভোট ময়দানে এবারের শান্ত পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে একদা দাপুটে এই নেতার ভবিষ্যদ্বাণী, “তৃণমূল এবার রাজ্যে ২৩০টি আসন পাবে। আর বীরভূমের সবক’টি আসনেই জোড়াফুল ফুটবে।”
বদলে যাওয়া কেষ্ট
বীরভূমের মাটিতে যাঁর দাপটে এক সময় ‘বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত’ বলে মনে করা হয়, সেই অনুব্রতর দাপুটে চেহারা এখন অতীত। এবার তিনি আর কাউকে চোখ রাঙালেন না। বরং ধীরস্থির পায়ে ভোট দিয়ে এক অনুগামীর বাইকে চেপে হাসিমুখে বাড়ির পথ ধরলেন। এক সময়ের দাপুটে মেজাজ কাটিয়ে এই ‘শান্ত’ অনুব্রতকেই এদিন নতুন করে দেখল রাজনৈতিক মহল।
শান্তিপূর্ণ ভোটপ্রক্রিয়া
বীরভূমের কোণায় কোণায় যেখানে আগে অশান্তির খবর লেগে থাকত, এদিন সেখানে বিচ্ছিন্ন দু’-একটি ঘটনা ছাড়া ভোট মোটের ওপর শান্তই ছিল। কেষ্টর নিজের গড় বোলপুরেও কোনও উত্তেজনার খবর মেলেনি। নেতার এই বদলে যাওয়া মেজাজ আর বুথে বুথে শান্ত ভোট দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বীরভূম সম্ভবত এক নতুন রাজনৈতিক ধারার সাক্ষী হতে চলেছে।
Partha Goswami
23/04/2026







