চোখরাঙানি উপেক্ষা করে সমাজের বেড়াজাল ভাঙলেন সুন্দরবনের রাখী-রিয়া, পাশে দাঁড়াল গোটা গ্রাম

SHARE:

তাঁরা একটা বিষয় খুব সহজেই বুঝে গেছিলেন যে, যাত্রাটা সহজ হবে না। নিজেদের প্রেমকে মান্যতা দিতে গেলে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে। ভালোবাসার পাশে থাকতে গেলে, বন্ধন অটুট রাখতে গেলে সমাজের চোখ রাঙানি সহ্য করতে হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) সুন্দরবনের (Sundarban) শান্ত গ্রামাঞ্চল। সেখানে লেখা হল অন্যরকম এক গল্প – ভালবাসার গল্প (Love Story)। সমাজের বাধা, ভ্রুকুটি, কটাক্ষকে উপেক্ষা করে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন দুই তরুণী (Lesbian Marriage)। একজন রিয়া সর্দার এবং অন্যজন রাখী নস্কর। মন্দিরে সাতপাক ঘুরে, মালা বদলে, আশীর্বাদে স্নাত হয়ে শুরু করলেন নতুন যাত্রা।

মন্দিরবাজারের (Mandirbazar) রিয়া ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন মা-বাবাকে। মাসি-মেসোর স্নেহেই বেড়ে ওঠা। কুলতলির বকুলতলার (Kultali Bakultala) রাখীর শৈশব আবার একান্নবর্তী পরিবারের ব্যস্ততায় ভরা। দু’জনেই নৃত্যশিল্পী। প্রথম পরিচয় ফোনে। সেখান থেকে বন্ধুত্ব, তারপর ক্রমে প্রেম।

তবে তাঁরা একটা বিষয় খুব সহজেই বুঝে গেছিলেন যে, যাত্রাটা সহজ হবে না। নিজেদের প্রেমকে মান্যতা দিতে গেলে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে। ভালোবাসার পাশে থাকতে গেলে, বন্ধন অটুট রাখতে গেলে সমাজের চোখ রাঙানি সহ্য করতে হবে। তাই তাঁরা ভেঙে পড়েননি। অনেক বাধা-বিপত্তি ঝেলে এই পথে এগিয়ে গেছেন।

রিয়া যখন সম্পর্কের (Relation) কথা বাড়িতে জানান তখন স্বাভাবিকভাবেই সমর্থন পাননি। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলাননি। তিনি ঠিক করেন, যাঁকে ভালবাসেন তাঁর হাত ছাড়বেন না। তাই রাখীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এদিকে রাখীর পরিবারে ছিল উল্টো সুর। তাঁরা দুজনের পাশে দাঁড়ায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করে দুজনের বিয়ের ব্যবস্থা করে স্থানীয় মন্দিরে। সেখানেই রিয়া এবং রাখীর মালাবদল, সিঁদুরদান, সাতপাক – সব রীতি মেনে বিয়ে দেওয়া হয়। মন্দির থেকেই শুরু হয় নবদম্পতির নতুন অধ্যায়।

Partha Goswami

05/11/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई