তিনি লেখেন – গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার নির্লজ্জ প্রয়াস চলছে। বার্থ সার্টিফিকেট একটি বৈধ নাগরিক নথি, যা সাধারণত নবজাতক বা বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু এখন তা রাজনৈতিক প্রকৌশলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
রাজ্যে এসআইআরের (SIR in West Bengal) মূল পর্ব চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কায় বেআইনি ভাবে বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate) বিলি করছে কলকাতা পুরসভা (KMC) – এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিস্ফোরক দাবি করে তিনি লেখেন – গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার নির্লজ্জ প্রয়াস চলছে। বার্থ সার্টিফিকেট একটি বৈধ নাগরিক নথি, যা সাধারণত নবজাতক বা বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু এখন তা রাজনৈতিক প্রকৌশলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা (KMC) অবৈধ উপায়ে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, “যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বা যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, তাঁদেরই সুবিধা দিতেই পুরসভা হঠাৎ করে বিপুল হারে বার্থ সার্টিফিকেট দিচ্ছে।”
কলকাতা পুরসভার স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই দুটি পদক্ষেপ নিয়েছেন –
১। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরে গত ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়া বার্থ সার্টিফিকেটের বিস্তারিত তথ্য জানতে আরটিআই আবেদন করেছেন।
২। পুর কমিশনারকে চিঠি লিখে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জারি হওয়া বার্থ সার্টিফিকেটের পরিসংখ্যান চেয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ওই সময়ের তথ্যও চেয়েছেন তুলনামূলকভাবে যাচাইয়ের জন্য।
চিঠিতে তিনি চারটি বিভাগে তথ্য চেয়েছেন –
* মোট কতগুলি বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে
* কেএমসি এলাকার বাইরে বসবাসকারীদের দেওয়া বার্থ সার্টিফিকেটের সংখ্যা
* ২০০৭ সালের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ‘লেট রেজিস্ট্রেশন’-এর সংখ্যা
* সদ্যোজাতদের বার্থ সার্টিফিকেটের সংখ্যা
শুভেন্দু সতর্ক করে বলেছেন, ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের বিধি লঙ্ঘনের যে কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ‘অবৈধ কাজ’-এর তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
দু’দিন আগেই রাজ্যের সিইও দফতরে (CEO Office) এই বিষয় সংক্রান্ত অভিযোগই জানিয়ে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আইপ্যাক ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বানিয়ে দিচ্ছে যাতে মৃত ভোটারকে জীবিত দেখানো যায়। তৃণমূল তার সাহায্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে চাইছে বলে দাবি ছিল তাঁর।
Partha Goswami
06/11/2025







