বৈশাখের প্রবল দহন আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ধকল সইতে পারলেন না রাজ্যের চার ভোটার। পটাশপুর, কেশপুর, মালতিপুর ও সিউড়িতে ভোট দিতে গিয়ে মৃত্যু হল চারজনের।
বৈশাখের প্রবল দহন আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ধকল সইতে পারলেন না রাজ্যের চার ভোটার। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন দুই মেদিনীপুর, মালদহ ও বীরভূমে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আলিপুর আবহাওয়া দফতর আগেই গরম নিয়ে সতর্ক করেছিল। খবর করেছিল দ্য ওয়াল। জানানো হয়েছিল, সকালে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোট দিয়ে আসুন। বয়স্ক ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথাও বলেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাও মৃত্যু আটকানো গেল না।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রোদের তেজ বাড়ার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই চার জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিচয় পাওয়া গেছে সকলের। রয়েছেন পটাশপুরের নৃপেন্দ্র দাস, কেশপুরের ইসরাতন বিবি, মালতিপুরের প্রমিলা বাগদি এবং সিউড়ির অসীম রায়।
পটাশপুর ও কেশপুরে মৃত্যু
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বামনবাড় জুনিয়র হাইস্কুলের ২৩৪ নম্বর বুথে সকালে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল এদিন। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সী নৃপেন্দ্র দাস। আচমকা অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান তিনি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সীমা গেরিয়া এলাকায় ভোট দিয়ে বেরিয়েই মৃত্যু হয়েছে ইসরাতন বিবি নামে এক প্রৌঢ়ার। জানা গিয়েছে, স্বামী শেখ নবাবজান আলির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। স্বামীকে ছাড়াই এদিন বুথে এসেছিলেন। ভোট দেওয়ার পরই অসুস্থ বোধ করেন এবং কিছুক্ষণ পরেই সব শেষ হয়ে যায়।
মালদহ ও বীরভূমে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের
মালদহের মালতিপুরেও একই অবস্থা। বেলা ১১টা নাগাদ ভোট দিতে গিয়ে বুথের মধ্যেই মাথা ঘুরে পড়ে যান প্রমিলা বাগদি। হৃদরোগে আক্রান্ত ওই মহিলাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হলে তাঁর মৃত্যু হয়। বীরভূমের সিউড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডেও ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনা। ভোট দিতে যাওয়ার পথেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ডাঙালপাড়ার বাসিন্দা অসীম রায়ের।
রেকর্ড ভোট ও উত্তাপ
এদিন সকাল থেকেই পশ্চিমের জেলাগুলোতে পারদ চড়ছিল। বৈশাখের শুরু থেকেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর ও বর্ধমানে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা সত্ত্বেও বুথে বুথে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কমিশন জানিয়েছে, বেলা ১১টা পর্যন্ত রেকর্ড ভোট পড়েছে। কিন্তু উৎসবের মেজাজের মধ্যেই এই চার ভোটারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে।
Partha Goswami
23/04/2026







