‘মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো?’ ভেঙে পড়েছেন তামান্নার মা! আতঙ্কে ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ

SHARE:

পুলিশের তদন্তে নিষ্ক্রিয়তায় তাঁদের ভরসা কমে গিয়েছে (Kaliganj bombing case)। যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরাও আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন, এই আশঙ্কা তাড়া করছে পরিবারকে।

'মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো?' ভেঙে পড়েছেন তামান্নার মা! আতঙ্কে ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ

একটি সন্তান হারানোর যন্ত্রণা যে কোনও মায়ের জীবনকেই ভেঙে দেয়। কয়েক মাস আগে নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয়োৎসব থেকে ছোড়া বোমায় মারা যায় নাবালিকা তামান্না খাতুন (Minor Girl Tamanna Khatun)। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, ভয় এবং হতাশার জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি (Tamanna’s Mother Falls Sick After Pill Overdose)। জানা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। বর্তমানে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চলছে তাঁর চিকিৎসা।

চলতি বছরের ২৩ জুন, কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের (Kaliganj By poll) ফল প্রকাশ হয়। বিপুল ভোটে তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জয়ী হন। সেই বিজয় উদ্‌যাপনের সময়ই ঘটে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যাতে প্রাণ যায় তামান্নার। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, মোট ২৪ জন অভিযুক্ত, কিন্তু অনেকেই এখনও ধরা পড়েনি, আর এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়।

পরিবারের কথায়, পুলিশের তদন্তে নিষ্ক্রিয়তায় তাঁদের ভরসা কমে গিয়েছে (Kaliganj bombing case)। যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরাও আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন, এই আশঙ্কা তাড়া করছে পরিবারকে। তামান্নার আত্মীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে আতঙ্কে ভুগছিলেন তামান্নার মা সাবিনা। প্রতিদিন চিন্তা করতেন, মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো? নাকি আবার তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা হতে পারে?

এই তীব্র মানসিক চাপে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারের দাবি, রাতে খাবারের পর সাবিনা ইয়াসমিন একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

তামান্নার কাকা রবিউল শেখ বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই দিদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে অনেকেই বাইরে ঘুরছে। যাদের ধরা হয়েছে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার হামলা করতে পারে, এই ভয়েই দিন কাটছে। সেই চাপেই উনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন।”

পরিবারের দাবি, দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন না। তামান্নার মৃত্যুর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটছে শোকাহত পরিবারের।

Partha Goswami

31/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई