বাস সিন্ডিকেট সংগঠনের বক্তব্য, “একই রাজ্যে এক এক জেলায় এক এক রকম আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন দফতরের এই দ্বিচারিতা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মরসুমে পরিবহণ পরিষেবার অন্যতম মেরুদণ্ড হল বেসরকারি বাস (Private Bus)। কিন্তু ভোটের কাজে সেই বাসগুলো দিয়েও এখন চরম বিপাকে মালিকেরা। অভিযোগ, নির্বাচনী কাজের জন্য বাস অধিগ্রহণ করা হলেও, প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থ পাচ্ছেন না তাঁরা। এই আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে এবার সিইও অফিস এবং পরিবহণ দফতরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বাসমালিকদের একাংশ।
ফেব্রুয়ারি থেকে অস্পষ্টতার অভিযোগ
জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নির্বাচনের কাজে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বাসমালিক সংগঠনের তরফে তখনই দৈনিক ভাড়া, শ্রমিকদের খোরাকি এবং অগ্রিম অর্থ প্রদানের মতো বিষয়গুলো নিয়ে পরিবহণ দফতর ও কমিশনের কাছে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছিল। সংগঠনের অভিযোগ, প্রাথমিক আলোচনা এবং নির্দেশিকা জারি হলেও, বাস্তবে সেই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ঢিলেমি দেখা দিয়েছে।
জেলাভেদে বৈষম্যের অভিযোগ
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিপুল সংখ্যায় বেসরকারি বাস ভোটের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বহু মালিকের দাবি, কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম অর্থ পৌঁছায়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বিভিন্ন জেলার মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণে
বঞ্চনার শিকার: কলকাতা, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার মালিকেরা এখনো অর্থ পাননি বলে অভিযোগ। রায়গঞ্জ, বালুরঘাট ও মেদিনীপুরের বাসমালিকদেরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ভিন্ন ছবি: উল্টোদিকে, হুগলি ও হাওড়া জেলায় কিছু বাসমালিক অগ্রিম অর্থ পেয়েছেন বলে খবর। এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েই বাসমালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
আর্থিক চাপে হিমশিম মালিকেরা
বাস সিন্ডিকেট সংগঠনের বক্তব্য, “একই রাজ্যে এক এক জেলায় এক এক রকম আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন দফতরের এই দ্বিচারিতা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সংগঠনের বক্তব্য, বাসমালিকদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকেছে। বাসগুলো ভোটের কাজে আটকে থাকায় নিজেদের পকেট থেকে শ্রমিকদের বেতন, বাসের ইএমআই (EMI) এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হচ্ছে, যা ছোট বা মাঝারি বাসমালিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
দ্বিতীয় দফার আগে শঙ্কা
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে। তার আগে ২৬ এপ্রিল থেকেই সংশ্লিষ্ট বাসগুলোকে পুনরায় রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসমালিকদের স্পষ্ট বার্তা, অবিলম্বে বকেয়া অগ্রিম অর্থ না মেটালে পরিস্থিতির জটিলতা বাড়বে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী কাজে যানবাহন সরবরাহের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে পারে প্রশাসন। ভোটের এই মহোৎসবে চাকা যাতে কোনোভাবেই না থমকে যায়, তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে এখন বাসমালিক সংগঠন।
Partha Goswami
24/04/2026






