ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক চলাচলের ওপর যে কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা কমিশন চাপিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে রাজ্য এবং আন্দোলনকারী আইনজীবীরা।
ভোটের (West bengal Assembly Election 2026) মুখে আমজনতার ব্যক্তিগত বাইক চলাচলে কমিশনের (Election Commission) নিষেধাজ্ঞা জারি করা নিয়ে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata high Court)। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে কার্যত তুলোধোনা করলেন বিচারপতি। পরিষ্কার জানতে চাইলেন, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার এক্তিয়ার কমিশনকে কোন আইন দিয়েছে?
ঠিক কী ঘটেছে? ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক চলাচলের ওপর যে কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা কমিশন চাপিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে রাজ্য এবং আন্দোলনকারী আইনজীবীরা। এদিন আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
কমিশনের যুক্তি বনাম আদালতের পর্যবেক্ষণ। কমিশনের দাবি, বাইক ব্যবহার করে অপরাধ ঘটিয়ে পালানো সহজ। অতীতের হিংসার নজির এবং ‘বাইক বাহিনী’র দাপট রুখতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২১-এর ভোট হিংসা এবং এনএইচআরসি (NHRC)-র হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গও টানে কমিশন।
কিন্তু এতে বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনার সব যুক্তি মানলাম। শুধু দেখান কোন আইনে ৭২ ঘণ্টা সাধারণ মানুষের বাইক ব্যবহারে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন? কোনো SOP বা ম্যানুয়াল আছে কি? প্র্যাকটিক্যাল ভাবুন, একজন গৃহশিক্ষক বা ছোট দোকানের কর্মী কাজের জায়গার কী প্রমাণ দেখাবেন?”
অ্যাডভোকেট জেনারেল ও বিকাশ ভট্টাচার্যের সওয়ালেও অস্বস্তিতে পরে কমিশন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) স্পষ্ট জানান, কমিশনের ক্ষমতা একচ্ছত্র নয়। ৩২৪ ধারার দোহাই দিয়ে তারা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যও সুর চড়িয়ে বলেন, “নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এটা আসলে ক্ষমতা জাহির করার প্রবণতা। কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংবিধানের বাইরে যেতে পারে না।”
যদিও পাল্টা আক্রমণে কমিশ দাবি করে, যে রাজ্য পুলিশও এই সিদ্ধান্তে একমত। তখন এজি সরাসরি বলেন, “রাজ্যের মুখ্য সচিব বা ডিজি কেউ নেই। কমিশন নিজেদের ‘হ্যাঁ-তে হ্যাঁ’ মেলানোর লোককে বসিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
Partha Goswami
24/04/2026






