এখানেই ছিল কাসভ! পলাতক মেহুল চোকসি ভারতে এলে তাঁর ঠিকানা হবে ‘ব্যারাক নম্বর ১২’

SHARE:

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত মেহুল চোকসি। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।

পলাতক ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির (Mehul Choksi) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের (Arthur Road Jail), বিশেষত ব্যারাক নম্বর ১২-র (Barrack no 12) ছবি পাঠানো হয়েছে বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষের কাছে, যেখানে চোকসিকে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ভারত সরকারের তরফে পাঠানো ছবিগুলোতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৪৬ বর্গমিটারের ব্যারাকটিতে দুটি পৃথক কক্ষ রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে সংযুক্ত শৌচাগার ও ন্যূনতম জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সুবিধা। সরকারের দাবি, এই বন্দিশালার অবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এবং চোকসির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষায় পূর্ণ ব্যবস্থা থাকবে।

মেহুল চোকসিকে রাখা হবে মুম্বইয়ের এই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন জেলের ব্যারাক ১২-তে, যেখানেই একসময় বন্দি ছিল ২৬/১১-এর অন্যতম হামলাকারী (26/11 Attacker) জঙ্গি আজমল কাসব (Ajmal Kasab)।

ব্যারাকে থাকবে দুটি ঘর ও নিজস্ব স্যানিটারি সুবিধা। আদালতে হাজিরা বা চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাইরে যেতে পারবেন না। এও জানা গেছে, তদন্তকারী সংস্থার নয়, বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানেই থাকতে হবে তাঁকে।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত মেহুল চোকসি। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোকসি এখনও ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত এবং প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় তিনি ‘ওয়ান্টেড’।

গত ১১ এপ্রিল অ্যান্টওয়ার্প পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ৬৫ বছর বয়সি চোকসি। সিবিআইয়ের (CBI) পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়। তার পর থেকে তিনি বেলজিয়ামের কারাগারে বন্দি আছেন। চোকসির আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছিলেন, ভারতের জেলগুলি নাকি অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

ভারতের পক্ষ থেকে চোকসির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ২০১ (প্রমাণ নষ্ট), ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ৪৭৭এ (হিসেব জালিয়াতি) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৭ ও ১৩ নম্বর ধারা (ঘুষের অভিযোগ)। এই সব অপরাধ বেলজিয়ামেও শাস্তিযোগ্য বলে ‘দ্বৈত অপরাধ’ (dual criminality) নীতিতে প্রত্যর্পণের দাবি জানায় ভারত। এছাড়া জাতিসংঘের দুর্নীতি দমন ও আন্তর্দেশীয় অপরাধবিরোধী কনভেনশনও (UNTOC ও UNCAC) উল্লেখ করা হয় ভারতের অনুরোধে।

Partha Goswami

22/10/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई