‘প্রথম দফায় ১১০ আসন পাব, এবার ভোটের সুনামি দেখতে পাচ্ছি’, আত্মবিশ্বাসী অমিত শাহ

SHARE:

রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি একে স্রেফ হাওয়া নয়, বরং ‘ভোটের সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শাহের কথায়, আগে বাংলায় ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হওয়া থেকে বিরত রাখা হত। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বাংলায় পরিবর্তনের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে! রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই এমন দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর মতে, প্রথম দফার এই উচ্চহারের ভোটদান আসলে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী জনমতের প্রতিফলন।

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখান থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শাহ জানান, বিজেপি ইতিমধ্যেই ১১০-র বেশি আসনে (First Phase Of West Bengal Election 2026) জয়ের সংকেত পেয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ভোট যত এগোবে এবং শেষ দফার দিকে যাবে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে বাংলায় এবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পদ্ম শিবিরই সরকার গড়তে চলেছে।

বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিজেপির জন্য কতটা প্রতিকূল ছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “একটা সময় আমাদের ঝুলিতে ছিল মাত্র ৩টি আসন। সেখান থেকে লড়াই করে আমরা ৭৭-এ পৌঁছেছি। যখন ৩ থেকে শুরু করেছিলাম, তখন গোটা রাজ্যটাই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আজ সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখন সরকার গড়া আমাদের কাছে অনেক বেশি সহজ কাজ। আসলে সরকার তো কোনও দল একা তৈরি করে না, দেশের সাধারণ মানুষই তা নির্ধারণ করেন। এবার বাংলার আপামর জনগণই স্থির করে নিয়েছেন যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবেন।”

রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি একে স্রেফ হাওয়া নয়, বরং ‘ভোটের সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শাহের কথায়, আগে বাংলায় ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হওয়া থেকে বিরত রাখা হত। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার কারণে মানুষ নির্ভয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়ার সঙ্গে যখন এই ভয়মুক্ত পরিবেশের মেলবন্ধন ঘটে, তখনই শাসক দলের পতন নিশ্চিত হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা কিছুই করুন না কেন, বিরোধিতা করাটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একপ্রকার অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। মোদীজি যদি ভুল করেও বলেন তৃণমূলকে ভোট দিতে, তবে উনি তাতেও আপত্তি জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে তাঁর সমস্যা, গঙ্গার ঘাটে ঘুরে বেড়ানো নিয়েও তাঁর আপত্তি। আসলে গঠনমূলক কাজের চেয়ে বিরোধিতাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।”

এদিনের বৈঠক থেকে এই প্রথম বাংলায় ‘রক্তপাতহীন’ ভোট হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন শাহ। কোনও প্রাণহানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই উচ্চ ভোটদানের হারই প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ এখন ত্রাস বা ভয়ের শাসন থেকে মুক্তি চান। ভয় নয়, বরং ভরসার সরকার গড়তেই মানুষ লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছেন এবং দ্বিতীয় দফাতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

অমিত শাহের এই দাবি বঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Partha Goswami

24/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई