প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগে এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে সভাস্থল ও সংলগ্ন অঞ্চল।
প্রথম দফার ভোট মিটতেই এবার নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। আর সেই দ্বিতীয় দফার মহাযুদ্ধের আগে আজ, শুক্রবার বারুইপুরে হাই-ভোল্টেজ প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Baruipur Narendra Modi Campaign)। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Rally Baruipur) পা রাখার কয়েক ঘণ্টা আগেই ধুন্ধুমার কাণ্ড দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে।
বিজেপির প্রচারের কাজে ব্যবহৃত একটি টোটোতে হামলা এবং চালককে মারধরের অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে (Baruipur BJP Campaign Attack)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে বারুইপুরের টংতলা ও সংলগ্ন এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিজেপির অভিযোগ
শুক্রবার বারুইপুর পশ্চিমের টংতলায় প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। প্রচারের জন্য অজয় হালদার নামে এক ব্যক্তির টোটো ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
প্রচার গাড়িটি যখন কল্যাণপুরের চাকারবেড়িয়া এলাকার কাছে পৌঁছয়, তখন একদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী গাড়িটিকে পথ আটকায়। অভিযোগ, টোটোচালক অজয়কে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং প্রচার বন্ধ করার জন্য হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গাড়িতে লাগানো নরেন্দ্র মোদীর ছবি সম্বলিত ফ্লেক্স ও ব্যানার ছিঁড়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় বলে দাবি বিজেপির। ভাঙচুর চালানো হয় ই-রিকশাটিতেও।
মাঠে নামলেন বিজেপি প্রার্থী
খবর পাওয়া মাত্রই রাতে দলীয় সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। আক্রান্ত চালকের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “এই কেন্দ্রের বিধায়কের কোনও জনভিত্তি নেই, মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। তাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তিনি এখন অগণতান্ত্রিক ভাবে বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা এই নক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হবে। আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বিজেপি।” ইতিপূর্বেই এই ঘটনায় বারুইপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুরজিৎ পুরকাইত। তাঁর পাল্টা দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করে, হিংসায় বিশ্বাস করে না। বিজেপির নিজেদের মধ্যে আদি আর নব্যর যে গোষ্ঠীকোন্দল চলছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। নিজেদের ঝগড়া ঢাকতেই এখন তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বাজারে সিম্প্যাথি’ পেতে চাইছে ওরা।” পুলিশ তদন্ত করলেই আসল সত্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশি নিরাপত্তা ও জনসভার প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগে এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে সভাস্থল ও সংলগ্ন অঞ্চল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
Partha Goswami
24/04/2026






