পাকিস্তান রেঞ্জার্স বাহিনীও ঘটনাস্থলে টিএলপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেঞ্জার্স আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের (Pakistan Punjab) মুরিদকে শহরে (Muridke) তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (TLP)-র বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। রবিবার গভীর রাতে টিএলপি-র মিছিল থামাতে অভিযান চালায় পাঞ্জাব পুলিশ (Police)। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জ (Lathicharge), টিয়ার গ্যাসের (Tier Gas) গোলা আর গুলিবর্ষণে বহু বিক্ষোভকারী আহত ও নিহত হয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অন্তত তিন জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, তবে স্থানীয় সূত্রে দাবি, মৃতের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।
টিএলপি প্রধান সাদ হুসেইন রিজভির নেতৃত্বে এই মিছিল লাহোর থেকে ইসলামাবাদের (Islamabad) উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে পথে ব্যারিকেড সত্ত্বেও শনিবার মুরিদকে পৌঁছে যান হাজার হাজার সমর্থক। সেখানে তাঁরা শিবির গড়ে বসেন। প্রশাসন তাঁদের আটকাতে আশপাশে গভীর গর্ত খুঁড়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখে, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাতে দমে না।
রাতের দিকে পুলিশ যখন মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে এগোয়, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাঞ্জাব পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, “বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর ইট-পাথর, কাঁটাযুক্ত লাঠি ও পেট্রল বোমা ছোড়ে। তারপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ উভয়েরই প্রাণহানি ঘটে।” এক পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দের মধ্যে এক নেতা বলছেন, “আজ সকাল থেকেই আমাদের ১১ জন শহিদ হয়েছেন। গুলি আর টিয়ার শেল ছোড়া চলছে লাগাতার।”
এদিকে, পাকিস্তানের মন্ত্রী তালাল চৌধুরী টিএলপি-কে কটাক্ষ করে বলেন, “গাজার সঙ্কটকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে তারা।” সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও হিংসাত্মক সংগঠনের চাপ বা হুমকির কাছে তারা নত হবে না।
বিষয়টির আলোচনার জন্য লাহোরে টিএলপি নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে আংশিকভাবে মোবাইল ডেটা পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাহিওয়াল বিভাগে টিএলপি-র সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৭০ জনকে প্রশাসনিক আইনে (MPO) গ্রেফতার করা হয়েছে।
Partha Goswami
13/10/2025







