কমিশনের এক পদস্থ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কর্মীরা কাজ করতে না চান, তাহলে তা তো কমিশনের নির্দেশকে অমান্য করার শামিল।”
ভোটের প্রস্তুতি শুরু হতেই জটিলতায় জড়াল রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া। এসআইআর (Special Intensive Revision) শুরুর আগেই একাধিক ব্লক লেভেল অফিসার (BLO)-কে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সূত্রের খবর, অনেকে এই কাজে আগ্রহ না দেখানোয় এবং দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করায় তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা দেওয়া হবে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে কমিশনের। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— কোথাও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পরও শতাধিক বিএলও কাজে আগ্রহ না দেখানোয় এবং দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করায় তাঁদের শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে পদক্ষেপও করা হতে পারে।
কমিশনের এক পদস্থ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিএলওরা মাঠে নেমে কাজ করছেন। যদি তাঁদের কেউ ভয় দেখায় বা রাজনৈতিক রোষের শিকার করেন, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কর্মীরা কাজ করতে না চান, তাহলে তা তো কমিশনের নির্দেশকে অমান্য করার শামিল।”
কেন একাংশ বিএলও কাজ করতে চাইছেন না?
প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএলওদের হেনস্তা ও ভয় দেখানোর অভিযোগ জমা পড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বা নতুন নাম তোলায় বাধা দেওয়া হয়েছে, সেসব এলাকাতেই চাপের মুখে পড়ছেন BLO-রা। একাংশ কর্মীর অভিযোগ, খোদ কলকাতার কসবা, খিদিরপুর, গুলশন কলোনির মতো এলাকাতেও প্রকাশ্যে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি, প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন কেউ কেউ।
তাঁদের দাবি, ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়লে শাসকদল চাপে পড়তে পারে, তাই শুরু থেকেই বিএলওদের নানা ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশের দাবি জানিয়েছে তাঁরা।
Partha Goswami
22/10/2025







