উৎসবের রাতে এক সম্ভাবনার শেষ হয়ে গেল। অন্তরার মতো কেউ যেন আর না হারায় জীবনের দৌড়ে—এই দাবি জানাচ্ছেন মধ্যমগ্রামের মানুষ।
কালীপুজোর (Kali Puja night) আলোয় ঝলমল যশোর রোড, একদিকে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে থমকে গেল এক কিশোরীর স্বপ্ন। রবিবার রাতে যশোর রোডের (Jessore Road) রাবার ফ্যাক্টরি ও মেঘদূত বাসস্টপের মাঝখানে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ১৬ বছরের অন্তরা বোস। চলতি শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় স্কুটির পিছনে বসে ছিল অন্তরা, স্কুটি চালাচ্ছিলেন জয়দীপ দে (১৮), বাড়ি ঘোষপাড়া, উদারাজপুরে। দুর্ঘটনার সময় তাঁদের স্কুটি আলোকসজ্জার গেট ও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যাট গাড়ির ফাঁক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই সময় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটি উল্টে যায়। স্কুটি থেকে রাস্তায় পড়ে যান অন্তরা, ঠিক তখনই পিছন দিক থেকে আসা একটি বেসরকারি বাস তাঁকে পিষে দেয় বলে অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা অন্তরাকে মৃত ঘোষণা করেন। জয়দীপ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই যশোর রোডের ওই অংশে ভ্যাটের গাড়ি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকে, যা দৃষ্টিহীন করে তোলে রাস্তার বড় অংশ। তার উপর, পুজোর আলোকসজ্জার কাঠামো রাস্তার একাংশ প্রায় ঢেকে রেখেছিল। এর জেরেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ঘাতক বাসটিকে চিহ্নিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই জাতীয় সড়কে প্রতিদিন ডেলিভারি বয়দের অসতর্ক স্কুটি চালানো, বাইকের বেপরোয়া গতি ও যানবাহনের বিশৃঙ্খলা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের।
Partha Goswami
22/10/2025







