‘ক্লোজার রিপোর্ট’এ সিবিআই (CBI) সুশান্তের বান্ধবী অভিনেতা রিয়া চক্রবর্তীকে (Rhea Chakraborty) ক্লিনচিট দিয়েছে।
বলি অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) রহস্যমৃত্যুর তদন্তে ঝাঁপ ফেলল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। ‘ক্লোজার রিপোর্ট’এ সিবিআই (CBI) সুশান্তের বান্ধবী অভিনেতা রিয়া চক্রবর্তীকে (Rhea Chakraborty) ক্লিনচিট দিয়েছে। সিবিআই রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, রিয়া চক্রবর্তী অবৈধভাবে সুশান্ত সিং রাজপুতকে আটকে রাখা, ভয় দেখানো এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। যদিও সুশান্তের পরিবার সিবিআইয়ের এই রিপোর্টে খুশি নয়। প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের বক্তব্য, সিবিআই অসম্পূর্ণ তথ্য পেশ করেছে এবং এটা সম্পূর্ণত একটি দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া রিপোর্ট।
একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুশান্ত সিং রাজপুত নাকি রিয়াকে ‘ফ্যামিলি’ বলে উল্লেখ করতেন। ৩৪ বছরের রাজপুত সেই আমলে টিভি ও বলিউডে কিছু অভিনয়ের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় তালিকায় উঠে এসেছিলেন। পবিত্র রিস্তা, ঝলক দিখলা জা, কেদারনাথ ও ছিন্চোরের মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। গত ২০২০ সালের ১৪ জুন তাঁকে বান্দ্রার ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্টে কী আছে?
- ১। রিয়া চক্রবর্তী সুশান্তর ফ্ল্যাট থেকে চলে গিয়েছিলেন ৮ জুন- তদন্তে দেখা গিয়েছে, রিয়া এবং তাঁর ভাই শৌভিক ৮ জুন তারিখে রাজপুতের ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান। তারপর আর তাঁরা সেখানে আসেননি। অভিযুক্তদের কেউ ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটে আসেননি কিংবা রাজপুতের সঙ্গে থাকেননি। এই সাতদিনে রাজপুত রিয়া অথবা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনওরকমভাবে যোগাযোগ করেননি অথবা ফোনে কথা হয়নি। শৌভিকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ জুন দুপুর ২টো ৪১ মিনিটে একবার কথা হয়েছিল।
- ২। সুশান্তের বোন ১২ জুন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন- সিবিআই রিপোর্টে রিয়া চক্রবর্তী তাঁর ফ্ল্যাটে ছিলেন না বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি বলা হয়েছে, রাজপুতের বোন মিতু সিং ৮ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ফ্ল্যাটে ছিলেন। রিয়া, শৌভিক ছাড়াও সুশান্তের ম্যানেজার শ্রুতি মোদীও ওই ফ্ল্যাটে আসেননি।
- ৩। অ্যাপলের ল্যাপটপ, ঘড়ি নিয়েছিলেন রিয়া- রিয়া চক্রবর্তী সুশান্তের ফ্ল্যাট ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখান থেকে অ্যাপলের ল্যাপটপ এবং অ্যাপলের হাতঘড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই দুটিই রাজপুত তাঁকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এছাড়া আর কোনও জিনিস হাতিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রমাণ নেই।
- ৪। রিয়াকে সুশান্ত ‘ফ্যামিলি’ বলে পরিচয় দিতেন- ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত রিয়া ও সুশান্ত লিভইন সম্পর্কে ছিলেন। সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসনের একজনকে সুশান্ত রিয়ার পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁর পরিবারের অংশ বলে। ফলে ফ্যামিলি বলে পরিচিত কারও বিদেশ ভ্রমণের খরচ আদায় করার অভিযোগ ধোপে টেকে না।
- ৫। রিয়ার হুমকি- তদন্তকারী সংস্থা এও বলেছে, রিয়া কিংবা অন্য অভিযুক্তরা কেউ কখনও ডিজিটাল কিংবা অন্য কোনওভাবে রাজপুতকে হুমকি দিয়েছেন এমন প্রমাণ মেলেনি। সবশেষে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি যাতে বলা যায়, রাজপুতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের তরফে। সুশান্তকে জোর করে ধরে রাখা অথবা অন্য কোনওভাবে তাঁকে আটকে রাখার অভিযোগেরও কোনও প্রমাণ পায়নি সংস্থা। পাটনার আদালতে ক্লোজার রিপোর্টের উপর শুনানি হবে আগামী ২০ ডিসেম্বর।
Partha Goswami
23/10/2025







