হাতের দুই আঙুলে জ্বলন্ত সিগারেট। কানে মোবাইল। উত্তেজিত ভঙ্গিতে ফোনে কথা বলে চলেছেন যুবক।
দলীয় প্রার্থীকে হারানোর ছক কষার অভিযোগে তড়িঘড়ি সঞ্জীব গুপ্তকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। কে সঞ্জীব? হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তৃণমূল (TMC) অঞ্চল সভাপতি। একটি ভিডিও প্রকাশ্যে (Viral Video) আসতেই তোলপাড় মালদহের (Malda) রাজনীতি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তাঁর পরনে পাঞ্জাবি-পাজামা। হাতের দুই আঙুলে জ্বলন্ত সিগারেট। কানে মোবাইল। উত্তেজিত ভঙ্গিতে ফোনে কথা বলে চলেছেন যুবক।
ভোটের দু’দিন আগে হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সঞ্জীবের এই মোবাইল কথোপকথনের ভিডিও। সেখানে তাঁকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, ‘‘টোটাল সিস্টেম অফ করা আছে…। দৌলতপুরের প্রধান অনিলের কাছে যান না। কোনও বুথে তৃণমূল কাজ করছে না। টোটাল সিস্টেম অফ করা আছে। শুধু ফেসবুকে আছে (নেতারা) তৃণমূলের ভয়ে। নরেন্দ্রপুরে চেষ্টা করছি তৃণমূলকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার। হরিশ্চন্দ্রপুরেও তৃণমূল ‘থার্ড পজিশনে’ যাবে। আমি কথা দিচ্ছি, হরিশ্চন্দ্রপুরে ১০ হাজার ভোট ‘ডাউন’ দেব।’’
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে এ বার টিকিট দেয়নি তৃণমূল। পরিবর্তে বিজেপি থেকে আসা মতিবুর রহমানকে প্রার্থী করায় স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। সঞ্জীবের এই কথোপকথন সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন জেলা নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর নির্দেশে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দল থেকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জীব গুপ্ত দীর্ঘ দিন ধরেই দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত। তাঁর এই কার্যকলাপ দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। সমস্ত দিক বিবেচনা করে সঞ্জীবকে দলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও খারিজ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের নির্দেশের পর অভিযুক্ত নেতা সঞ্জীব গুপ্তের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভোটের মুখে দলেরই অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে এমন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব।
Partha Goswami
22/04/2026






