হাসাম ‘কার্ডিও সেবা সংস্থান ট্রাস্ট’ নামে একটি সংস্থাও খুলেছিল। এই সংস্থার আড়ালে সে ছাত্রীদের নিয়ে মুসলিম প্রধান এলাকায় বিভিন্ন ক্যাম্প করতে যেত। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ট্রাস্টের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ডিপি (DP)-তে ব্যবহার করা হয়েছিল KGMU-র বর্তমান মুখপাত্র ডা. কেকে সিংয়ের ছবি।
ডাক্তারির জাল শংসাপত্র বা ভুয়ো ডাক্তার ধরার খবর মাঝেমধ্যেই শিরোনামে আসে। কিন্তু লখনউয়ের বিখ্যাত কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (KGMU) সাম্প্রতিক ঘটনাটি সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। সেখানে কেবল ডিগ্রি জাল করাই নয়, রীতিমতো ডাক্তার সেজে ছাত্রীদের ধর্মান্তকরণের এক সুগভীর ষড়যন্ত্র চলছিল বলে অভিযোগ (KGMU Lucknow Religious Conversion Racket)।
বুধবার লখনউ পুলিশ জানিয়েছে, হাসাম আহমদ নামে এক যুবক নিজেকে ভুয়ো রেসিডেন্ট ডাক্তার (Fake Doctor) পরিচয় দিয়ে হিন্দু ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলত।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ধৃত হাসাম আহমদ আদতে মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পাশ। কিন্তু সে এমনভাবে নিজেকে KGMU-র ডাক্তার হিসেবে তুলে ধরত যে, ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আরও দুটি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীরা তার ওপর আস্থা রাখত। অভিযোগ, সে সুপরিকল্পিতভাবে হিন্দু ছাত্রীদের টার্গেট করত। দিল্লি এইমসে (AIIMS) কনফারেন্সে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ছাত্রীদের ভুয়ো চিঠিও দিয়েছিল সে।
এখানেই শেষ নয়, হাসাম ‘কার্ডিও সেবা সংস্থান ট্রাস্ট’ নামে একটি সংস্থাও খুলেছিল। এই সংস্থার আড়ালে সে ছাত্রীদের নিয়ে মুসলিম প্রধান এলাকায় বিভিন্ন ক্যাম্প করতে যেত। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ট্রাস্টের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ডিপি (DP)-তে ব্যবহার করা হয়েছিল KGMU-র বর্তমান মুখপাত্র ডা. কেকে সিংয়ের ছবি। এমনকি রোগীদের থেকে ভিজিট বা ফিজও আদায় করত এই প্রতারক।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে KGMU-রই এক রেসিডেন্ট ডাক্তার রামীজ উদ্দিন নায়কের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগ থেকে। অভিযোগ ছিল, রামীজ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর এক সহকর্মীকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করেছেন এবং তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করেছেন।
লখনউ পুলিশ জানিয়েছে, ডা. রামীজ যখন আগ্রায় এমবিবিএস পড়তেন, তখনই তিনি এক হিন্দু তরুণীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছিলেন। KGMU-র প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তিনি তাঁর এক সহকর্মীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। নির্যাতিতার দাবি, রামীজ নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জোর করে তাঁকে ধর্মান্তরিত করেন। এরপর পিলভিটে নিয়ে গিয়ে বিয়েও করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। জানা গেছে, ডা. রামীজের নির্দেশেই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের অন্দরে বিভিন্ন ধর্মীয় ভাষণ ও সভার আয়োজন করা হতো। এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য KGMU একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে, যার প্রধান আবার সেই ডা. কেকে সিং, যাঁর ছবি হাসাম নিজের ট্রাস্টের ডিপি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
গত সপ্তাহেই ডা. রামীজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই ধর্মান্তকরণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার অভিযোগে রামীজের বাবা সলিমুদ্দিন এবং মা খাদিজাও পুলিশি হেফাজতে। পিলভিটের এক মৌলবী ও এক সাক্ষীও পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। হাসাম আহমদকে গ্রেফতার করার পর তাকে জেরা করে এই র্যাকেটের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
লখনউয়ের মতো একটি শহরের প্রথম সারির মেডিক্যাল কলেজে কীভাবে নাকের ডগা দিয়ে এমন চক্র চলল, তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে। অভিযুক্তরা কি কোনও বড় জঙ্গি মডিউলের অংশ, নাকি এর পিছনে শুধুই ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করছে, এখন সেটাই দেখার।
Partha Goswami
22/04/2026






