মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে ট্রেনে হিন্দি-মরাঠি ভাষা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে এক কলেজছাত্রকে মারধর করা হয়। মানসিক চাপে শেষে আত্মঘাতী হয় সে।
হিন্দি-মরাঠি ভাষা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে ট্রেনে মারধর, অপমানে আত্মঘাতী হল এক কলেজছাত্র। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার মানসিক আঘাতই তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের।
মৃত ছাত্রের নাম অর্ণব খায়রে (Arnav Khaire)। বয়স খুব বেশি নয়, কলেজে পড়তে। বাড়ি ঠাণের কল্যাণ পূর্ব (Kalyan East) এলাকায়। প্রতিদিনের মতো মুলুন্দ (Mulund) কলেজে যাওয়ার জন্য লোকাল ট্রেনে ওঠেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় ট্রেনে কয়েকজনের সঙ্গে ভাষা নিয়ে তর্ক শুরু হয়। হিন্দি-মরাঠি ভাষা বিতর্ক (Hindi-Marathi Language Row) নিয়ে যে কথার লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, কমপক্ষে পাঁচ জন মিলে অর্ণবকে মারধর করে।
অর্ণবের বাবা জিতেন্দ্র খায়রে (Jitendra Khaire) জানিয়েছেন, ওই দিনের ঘটনার পর থেকেই ছেলে প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিল। ট্রেনে ঘটে যাওয়া মারধরের জন্য তার মানসিক অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যায়। বাবার কথায়, ‘ও খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ওর মধ্যে প্রচণ্ড স্ট্রেস তৈরি হয়েছিল। সেই মানসিক চাপে পড়েই আত্মহত্যা করেছে আমার ছেলে।’
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন ট্রেনের ভিড় বেশি থাকায় প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি রেল পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অর্ণবের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে মারধরের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রেনে ভাষা নিয়ে বিবাদের ঘটনা দিন দিন কেন বাড়ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার পর ঠাণের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি তোলে। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করে, সেখানে এমন মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Railway Security) আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
অর্ণবের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমেছে কাল্যাণ এলাকায়। পরিবারের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ভাষাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণের জীবন শেষ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
Partha Goswami
20/11/2025







