হাবিবুল রহমানের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তাঁর দাবি, দিনকয়েক আগে পদ্মপুকুর বাজারে আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত একটি নির্বাচনী সভায় তিনি শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ‘সাহস’-এর সাজা দিতেই এভাবে দরজায় বোমা রেখে খুনের হুমকি বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। তার ঠিক আগেই বোমাবাজির আতঙ্কে সিঁটিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা। শুক্রবার সকালে দেগঙ্গা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর এলাকায় এক আইএসএফ (ISF) নেতার বাড়ির সদর দরজার সামনে থেকে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Deganga Bomb Recovery)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার শাসকদল তৃণমূল এবং আইএসএফ-এর মধ্যে রাজনৈতিক তরজা (TMC ISF clash Deganga) শুরু।
ওই আইএসএফ নেতার নাম মহাম্মদ হাবিবুল রহমান। তিনি দলের অঞ্চল সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাঁর দাবি, শুক্রবার ভোরে প্রতিদিনের মতো কাজের তাগিদে বাড়ি থেকে বেরনোর জন্য তিনি সদর দরজা খুলে দেখেন, ঠিক দরজার গোড়াতেই পড়ে রয়েছে দু’টি তাজা সুতলি বোমা (bomb found at ISF leader home Deganga)। দিনের আলো ফোটার আগেই এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। খবর দেওয়া হয় দেগঙ্গা থানায়। পুলিশ এসে বোমা দু’টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
হাবিবুল রহমানের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তাঁর দাবি, দিনকয়েক আগে পদ্মপুকুর বাজারে আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত একটি নির্বাচনী সভায় তিনি শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ‘সাহস’-এর সাজা দিতেই এভাবে দরজায় বোমা রেখে খুনের হুমকি বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইএসএফ নেতার আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর বাড়িতে একই কায়দায় বোমা রাখা হল। স্থানীয় আইএসএফ কর্মীদের ক্ষোভ, প্রশাসন সব জেনেও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের অভিযোগ ঠিকমতো গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে না বলেও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
যদিও আইএসএফ-এর এই সমস্ত অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মিজানুর হোসেন পালটা অভিযোগ করে বলেন, “এলাকা অশান্ত করতে আইএসএফ নিজেই এই ড্রামা সাজিয়েছে।” তাঁর দাবি, কয়েকদিন আগে এলাকার একটি বাগান থেকেও বোমা উদ্ধার হয়েছিল, যা আসলে আইএসএফ নেতারাই মজুত করেছিল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভাষায়, ‘তৃণমূলের এমন দুর্দিন আসেনি যে বোমা দেখিয়ে কাউকে ভয় দেখাতে হবে। আসলে পায়ের তলার মাটি হারিয়ে নিজেদের রাখা বোমার দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।’
তৃণমূল ও আইএসএফ-এর এই রাজনৈতিক চাপানউতরের মাঝে এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাবিবুল রহমানের পরিবার। ভোটের মুখে খোদ বাড়ির দোরগোড়ায় বোমা মেলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামবাসীরাও। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। কে বা কারা এই বোমা রেখে গেল, এখন সেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
Partha Goswami
24/04/2026







