বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা, রাজ্যসভার বড় সংখ্যক সাংসদকে সঙ্গে নিয়েই আপ ছাড়লেন

SHARE:

২০২৬-এর নির্বাচনের মুখে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলে চরম বিপর্যয়! রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে বিজেপি-তে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা। হরভজন সিং থেকে স্বাতী মালিওয়াল— কেন হঠাৎ ‘আপ’ ছাড়লেন প্রথম সারির নেতারা?

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (AAP) বড়সড় ধস। শুক্রবার রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল আপ ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP)। শুক্রবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা ঘোষণা করেন, রাজ্যসভায় আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সংবিধানের নিয়ম মেনে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা কেজরিওয়ালের দলের কাছে এক চরম বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে।

‘ভুল দলে সঠিক মানুষ’

সাংবাদিক বৈঠকে আবেগপ্রবণ চাড্ডা জানান, যে দলকে তিনি ১৫ বছর নিজের রক্ত-ঘাম দিয়ে তৈরি করেছিলেন, সেই দল এখন আদর্শচ্যুত। তিনি বলেন, “আপ এখন দেশের স্বার্থ ভুলে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছে। গত কয়েক বছর ধরে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করছিলাম যে আমি আসলে ভুল দলে থাকা সঠিক মানুষ। তাই আজ এই দল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।”

রাঘবের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই অর্থাৎ ৭ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাল। এই তালিকায় রয়েছেন হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রমজিৎ সিং সাহনি। এই মর্মে স্বাক্ষরিত চিঠি ও নথিপত্র শুক্রবার সকালেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংঘাতের আবহ ও দলত্যাগ

গত ২ এপ্রিল রাজ্যসভার উপ-নেতার পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই আপ-এর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। দলের অভিযোগ ছিল, চাড্ডা নাকি সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব না হয়ে স্রেফ নিজের জনসংযোগ বাড়াতে ব্যস্ত। পাল্টা জবাবে চাড্ডা একে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

সেসময়ই উঠেছিল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গও। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি মুখ খোলেননি। যদিও সাম্প্রতিককালে সমাজমাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডে এই দলবদলের ইঙ্গিত মিলেছিল। হরভজন সিং ও স্বাতী মালিওয়ালের মতো প্রথম সারির নেতাদের এই দলত্যাগ আপের ভিত যে নাড়িয়ে দিল, তা বলা বাহুল্য।

বিজেপি শিবিরের দাবি, আপ-এর এই ভাঙন প্রমাণ করে যে কেজরিওয়ালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের ভেতরেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে এই মেগা দলবদল রাজনৈতিক সমীকরণ বা নবান্ন দখলের লড়াইয়ে কোনও প্রভাব ফেলে কিনা, এখন সেটাই দেখার। কারণ বঙ্গে মমতাকে সমর্থন করে প্রচারে আসছেন কেজরিওয়াল। ঘর ভাঙার পর তাঁর উপস্থিতি কতোটা সদর্থক ভূমিকা নেবে ভোটের আগে, সেনিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

Partha Goswami

24/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई