‘দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা, পড়াশোনা হচ্ছে না!’ ভোটপ্রচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে টিপ্পনী মোদীর

SHARE:

এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। যার পাল্টা দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে ভোটমুখী বাংলায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচারে পানিহাটির পর বারুইপুরের জনসভা থেকেও শুক্রবার চেনা মেজাজে ধরা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যাদবপুর, বারুইপুর এবং জয়নগরের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই মেগা সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় উঠে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)।

এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। যার পাল্টা দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। সব মিলিয়ে ভোটমুখী বাংলায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর।

বারুইপুরের জনসভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরাসরি অভিযোগের সুরে বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে এখন হুমকি দেওয়ার সংস্কৃতি চলছে। দেওয়াল জুড়ে লেখা হচ্ছে দেশবিরোধী নানা স্লোগান। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ ছাত্রদের জোর করে মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেখানে পঠনপাঠনের পরিবেশ নেই বললেই চলে। আমরা এই গৌরবময় বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের অন্যতম সেরা একটি শিক্ষাকেন্দ্র রক্ষা করতে পারে না, তারা গোটা রাজ্যকে কীভাবে রক্ষা করবে?”

প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও দাবি করেন যে, ভারতের সংবিধান সাধারণ মানুষকে যে ভোটাধিকার দিয়েছে, সেই শক্তি প্রয়োগ করেই এবার বাংলায় বিপ্লব আসবে। তৃণমূলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং বেকারত্বের কবল থেকে মুক্তি পেতে তিনি জনগণের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দেশবিরোধী’ মন্তব্যে মোটেও চুপ থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার জনসভা এবং সমাজমাধ্যম – উভয় মাধ্যমেই তিনি মোদীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “আপনার নিজের সরকারের দেওয়া জাতীয় র‍্যাঙ্কিংয়েই (এনআইআরএফ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে। অথচ সেই শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্রকেই আপনি এভাবে জনসভা থেকে অপমান করছেন? রাজনীতির জন্য আপনি এতটা নীচে নামতে পারেন?”

যাদবপুরের পড়ুয়াদের পক্ষ নিয়ে তিনি সাফ জানান, সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও প্রশ্ন করার ক্ষমতা আছে বলেই তাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। একে অরাজকতা বলা যায় না, বরং এটাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই থেমে থাকেননি। প্রধানমন্ত্রীর ‘অরাজকতা’র সংজ্ঞার পাল্টা একটি দীর্ঘ তালিকা পেশ করেছেন তিনি। কেন্দ্রকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, বুলডোজার দিয়ে ন্যায়বিচারের বদলে শক্তির আস্ফালন দেখানো কি অরাজকতা নয়? কৃষকদের কণ্ঠরোধ করা, রাজনৈতিক স্বার্থে অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া কিংবা গরিব মানুষকে তাঁদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত করা— এসবই কেন্দ্রের জমানায় স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। এমনকি মণিপুরে যখন দীর্ঘ সময় ধরে অশান্তি চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী সেখানে না গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকাকেই আসল ‘অরাজকতা’ বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

ধর্ম নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেও তিনি মোদীকে বিঁধেছেন। এক কথায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নেতার এই বাক্যযুদ্ধ এখন বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।

Partha Goswami

24/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई