কলকাতার জ্ঞানতীর্থ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সেই কুর্সিতেই বসলেন আর এক আশুতোষ। এতদিন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে ছিলেন শান্তা দত্ত দে।
১৯০৬ থেকে ১৯১৪, পরে আবার ১৯২১ থেকে ১৯২৩, এই দুই পর্যায়ে উপাচার্য হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে (Calcutta University) বিশ্বমানের উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (Sir Ashutosh Mukherjee)। সেই ঘটনার ১০২তম বর্ষে আবারও ঐতিহ্যশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন আর এক আশুতোষ। সরছেন শান্তা দত্ত।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য (CU Vice Chancellor) নিয়োগ হল। দীর্ঘদিন পর জট কাটল, তবে আংশিক। এখনও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ বাকি। তবে যে সব বিশ্ববিদ্যালয় নতুন স্থায়ী উপাচার্য পেল, সেগুলির মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত দে বিদায় নিলেন। স্থায়ী উপাচার্য হলেন আশুতোষ ঘোষ।
১৯০৬, বঙ্গভঙ্গের পর কেটেছে মাত্র এক বছর। চারদিকে তখন অস্থিরতা, প্রতিবাদ, আর স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ারে উত্তাল বাংলা। এমন সময়েই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আসনে বসেন এক অসাধারণ মেধাবী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বাঙালি, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
কলকাতার জ্ঞানতীর্থ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সেই কুর্সিতেই বসলেন আর এক আশুতোষ। এতদিন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে ছিলেন শান্তা দত্ত দে। তাঁকে নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। কখনও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে মতবিরোধ, কখনও আবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সংঘাত। প্রায় সারাক্ষণই খবরের শিরোনামে ছিলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষানীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শান্তার দৃঢ় অবস্থান অনেকেরই চক্ষুশূল হয়েছিল। তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার এবং শাসক দল প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিল। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধও তিনি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যা শিক্ষাক্ষেত্র তো বটেই, রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর আলোড়ন তোলে।
সব মিলিয়ে, স্বল্প মেয়াদের উপাচার্যত্ব হলেও শান্তা দত্তের অধ্যায় ছিল দৃঢ়তার, আত্মসম্মানের এবং আপসহীন প্রশাসনিক মানসিকতার এক বিরল উদাহরণ।
এখন তাঁর কুর্সিতে নয়া উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের সফরনামা কেমন হয় সেটাই দেখার।
Partha Goswami
06/10/2025







