‘ছোবল মারলে বিষ হজম করতে পারবে না!’ ফের বেসুরো হুমায়ুন, হুমকি দলের জেলা সভাপতিকে

SHARE:

অপূর্বর উদ্দেশে  হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “এখানকার মাতব্বর এখনো বলছে ‘আমার বাবা আছে কাঁথিতে’ — দেখব, তোমার বাবার চেয়ার কতদিন থাকে। আবু তাহেরকে, শাওনী সিংহ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরিয়েছি. তোমাকেও চ্যালেঞ্জ করে গেলাম, এই চেয়ার থেকে সরাব। সরিয়ে পদ্মা পার করে দেব।”

ফের বেসুরো হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)! বিজয়া সম্মিলনী মঞ্চ থেকে দলেরই জেলা সভাপতিকে (District President, Apurba Sarkar) সরাসরি হুমকি দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার ভরতপুরের প্রকাশ্য সভায় জেলার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের সামনে দলীয় জেলা সভাপতি ও কান্দির বিধায়ক অপূর্বর উদ্দেশে হুমায়ুন বলেন, “ভাই, নিজের চরকায় একটু বেশি তেল দিন, নিজের জায়গা নিশ্চিত রাখুন, না হলে আগামিদিনে বিপদে পড়বেন। চারবার বিধায়ক হয়েছেন, পাঁচবারে বিপদ পড়ুন আমি চাই না।” কথাগুলো ছিল ঠাণ্ডা ভয়াবহতার মিশেলে—হুমায়ুনের স্বরে আবার কড়া হুমকিও ছিল।

এখানেই না থেমে হুমায়ুন আরও বলেন, “হিংস্র জন্তুর লেজে পা দেবেন না, ঘুরে এমন ছোবল মারবে যে বিষও হজম করতে পারবে না।” অপূর্বর উদ্দেশে  হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “এখানকার মাতব্বর এখনো বলছে ‘আমার বাবা আছে কাঁথিতে’ — দেখব, তোমার বাবার চেয়ার কতদিন থাকে। আবু তাহেরকে, শাওনী সিংহ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরিয়েছি. তোমাকেও চ্যালেঞ্জ করে গেলাম, এই চেয়ার থেকে সরাব। সরিয়ে পদ্মা পার করে দেব।”

হুমায়ুনের অভিযোগ, অপূর্বর লোকজন তার মিটিংয়ে আসা কর্মী-সমর্থকদের শাসন করছে। এর জবাবে হুমায়ুন বলেন, “আমার ল্যাজে পা দিলে মাথা ভেঙে চুরমার করে দেব। বেশি ঘাঁটালে দেখব কীভাবে নিজের এলাকা সুরক্ষিত রাখবে।” তীব্র কণ্ঠে তিনি আরও সতর্ক করেন, “আমাকে বেশি চমকালে সামনে কে আসে দেখব না, নস্যির মতো টেনে ফেলব; পুরোপুরি ঝেড়ে দেব।”

স্থানীয় রাজনীতিক বর্ণনায় হুমায়ুন অতীত পরিচিত একাধিক ঘটনার কথাও টেনে আনেন—সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে হারানোর পর বহরমপুরে তখনকার ‘রবিনহুড’ ছিলেন প্রমথেশ মুখোপাধ্যায়; ১৯৮৪ সালের পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, সময় পালটে যেতে পারে — বড়তম গোঁড়ামি বা দম্ভ সবসময় টিকেনা। তাই প্রমথেশকেও হারতে হয়েছিল। যেভাবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনে করিয়েছেন, “আমাকে কেউ হারাতে পারবে না, এমন দম্ভ থেকে যেন বেরিয়ে আসেন অপূর্ব।”

এ ব্যাপারে জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে হুমায়ুন যেভাবে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে দলের জেলা সভাপতিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাতে জেলা তো বটেই রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল ছড়িয়েছে। অতীতে বেফাঁস মন্তব্য করার জন্য একাধিকবার দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় কিনা, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।

Partha Goswami

15/10/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई