দিল্লি সরকার জানিয়েছে, বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে।
দিল্লির ফি-বছরের বায়ুদূষণের দুর্ভোগ শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়ালি থেকেই। শুক্রবার পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়ে অতি খারাপ থেকে খারাপ স্তরে উঠেছে দূষণের সূচক। গত চারদিন ধরে দূষণের তীব্রতা খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) তথ্য বলছে, এদিন সকাল ৬টায় রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা ছিল ২৯৩। বৃহস্পতিবার বিকেলে যা ছিল ৩০৫।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সরকার গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় কৃত্রিম মেঘ তৈরি করে বৃষ্টি নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে আগামী সপ্তাহে। ২৮-৩০ অক্টোবর দিল্লির বায়ু দূষণ ঠেকাতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের ঘটনা কেবলমাত্র প্রযুক্তিগত দিক থেকে ঐতিহাসিকই নয়, দিল্লির দূষণ ঠেকাতে একটি বৈজ্ঞানিক রূপরেখা প্রতিষ্ঠার সূচনাও বটে। সরকারের লক্ষ্য দেশের রাজধানীর বাতাস পরিচ্ছন্ন রাখা। একইসঙ্গে আমরা চাই উদ্ভাবনার মধ্য দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সূচক অনুযায়ী ০-৫০ পর্যন্ত হল ‘উত্তম’। ৫১-১০০ হল ‘সন্তোষজনক’। ১০১-২০০ পর্যন্ত সূচককে ‘মধ্যম’। ২০১-৩০০-র মধ্যে থাকলে তা ‘মন্দ’। ৩০১-৪০০ হচ্ছে ‘অতি মন্দ’ এবং ৪০১-৫০০ হল ‘বিপজ্জনক’ স্তরের দূষণমাত্রা। সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি সরকার আইআইটি কানপুরের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছিল পাঁচটি কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের বিষয়ে। আইআইটি কানপুরেরই অধীনে মিরাটে একটি বিশেষ বিমান রয়েছে। যাতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের যাবতীয় সামগ্রী ভরা রয়েছে পরীক্ষামূলক কাজের জন্য।
সেই হিসেবে আগামী ২৯ অক্টোবর সম্ভাব্য উপযুক্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর দিল্লির আকাশে মেঘ তৈরির পূর্বাভাস থাকায় ওই দিনই কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের আদর্শ-অনুকূল পরিবেশ মিলবে বলে আবহাওয়াবিদদের আশা।
Partha Goswami
24/10/2025







