যদিও আইনের ফাঁক গলে ধৃত চারজনকেই জামিন দিয়েছে পুলিশ। এমন প্রাণঘাতী হামলার পরেও কী করে জামিন পেয়ে গেলেন তাঁরা, সেই নিয়েও কথা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে (Sonarpur Customs Officer) আক্রান্ত এবার এক কেন্দ্রীয় কাস্টমস অফিসার। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ জনেরও বেশি দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে মারধর (Attack on Customs Officer) চালায়। হামলার সূত্রপাত নাকি একটি অটোর সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা ঘিরে। ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।
ঘটনা হল, শনিবার সন্ধেবেলা নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন কাস্টমস অফিসার প্রদীপ কুমার। রাস্তায় তাঁর গাড়ির সঙ্গে এক অটোচালকের গাড়ির হালকা ধাক্কা লাগে। এরপর বচসা শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতের দিকে সেই অটোচালক প্রায় ৫০-৫৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রদীপবাবুর বাড়িতে চড়াও হন।
অভিযোগ, তারা কোলাপসিবল গেট ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে হামলা চালায়। অফিসারের মাথায় গুরুতর চোট লাগে, সেলাই পড়েছে। তাঁর স্ত্রীর উপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রদীপবাবুর অভিযোগ, হামলার সময় তিনি বারবার পুলিশে ফোন করেছিলেন, কিন্তু তবু সাহায্য মেলেনি। “তারা বলছিল আসছি… আসছি। কিন্তু ৪০ মিনিট পর পুলিশ আসে,” জানিয়েছেন ওই অফিসার। এই ঘটনার পর সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৩২, ১২৬/২, ১১৭/২, ৩২৪/৪, ৩১১/২, ৩ ও ৫ ধারায় মামলা রুজু হলেও সব ক’টি ধারাই জামিনযোগ্য।
যদিও আইনের ফাঁক গলে ধৃত চারজনকেই জামিন দিয়েছে পুলিশ। এমন প্রাণঘাতী হামলার পরেও কী করে জামিন পেয়ে গেলেন তাঁরা, সেই নিয়েও কথা শুরু হয়েছে।
রবিবার আহত অফিসারের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি বলেন, “এটা স্পষ্টতই মব লিঞ্চিং। পুরো পরিবারকে মারার চেষ্টা হয়েছে। বাইরে ২০০ জন ছিল, ভিতরে ঢুকেছিল প্রায় ৫০ জন।”
প্রাক্তন পুলিশ কর্তা অরিন্দম আচার্য এই ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “একজন অটোচালক যদি কাস্টমস অফিসারের বাড়িতে ঢুকে মারধর করতে পারে, তবে ভাবুন আইনশৃঙ্খলা কোথায় দাঁড়িয়েছে।”
এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একের পর এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে পড়ছে এবং হামলা চালাচ্ছে।
একদিকে কেন্দ্রীয় দফতরের আধিকারিক, অন্যদিকে অটোচালক ও তাঁর দলবল— এমন সংঘর্ষে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে, কারণ হামলার আগে ও চলাকালীন সময়ে পুলিশকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
Partha Goswami
26/10/2025







