“মন্দির বা মসজিদ তৈরির জন্য কাউকে সাসপেন্ড করা হয়নি। ধর্মকে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার করলে দল সেটা বরদাস্ত করবে না। তৃণমূল প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করে।”
ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ফের তীব্র তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মসজিদের শিলান্যাসের আগেই প্রশ্ন ছুড়লেন, “১৫ বছরে সংখ্যালঘুরা কী পেয়েছে?”
হুমায়ুনের অভিযোগ, ২০১১ সালে সংখ্যালঘুদের আস্থায় ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু “দিনের পর দিন মিথ্যাচার করেছেন” মুখ্যমন্ত্রী—এমনটাই দাবি তাঁর। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন, সেটাই ঠিক। আর বাকিরা যা বলবে সেটাই ভুল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত অহঙ্কার। আমি তাঁকে প্রাক্তন করবই।”
#RE;
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে এবং সেই ভোটেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। তাই ন্যায্য অধিকারের কথা বললে দল তা ভাল চোখে দেখছে না বলেও অভিযোগ তাঁর।
যার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। হুমায়ুনের অভিযোগকে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, “মন্দির বা মসজিদ তৈরির জন্য কাউকে সাসপেন্ড করা হয়নি। বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের প্ররোচনা, যড়যন্ত্রে কেউ যদি ধর্মকে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার করে তাহলে দল সেটা বরদাস্ত করবে না। তৃণমূল প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করে।”
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
বৃহস্পতিবার দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল হুমায়ুনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করে। শুক্রবার হুমায়ুন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আল্লা আমার সঙ্গে আছে। আল্লা যার সঙ্গে থাকে, সাধারণ মানুষও তার সঙ্গে থাকে।”
তৃণমূলের অভিযোগ, মসজিদ তৈরির পক্ষ নেওয়া সহ হুমায়ুনের একাধিক মন্তব্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ছাপ দেখা যাচ্ছিল। তাই সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে।
সাসপেন্ড হওয়ার পরই আরও আগ্রাসী সুরে হুমায়ুন ঘোষণা করেছেন, “নিজের দল গড়ব। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৯০টি আসনে প্রার্থী দেব। মোট ১৩৫টি আসনে লড়াই করব। প্রয়োজনে বিধানসভায় বিরোধী আসনে বসব।”
সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন এবং মুসলিমদের ন্যায্য অধিকারই তাঁর মূল লক্ষ্য বলেও দাবি করেন তিনি। শনিবারই বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—তাঁর রাজনৈতিক সংঘাত এখানেই থামছে না।
Partha Goswami
06/12/2025







