রেশন দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান।
রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Scam) ইডির স্ক্যানারে দুটো নতুন নাম- উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শাহানুর মণ্ডল এবং তাঁর ভাই সাহারাপ মণ্ডল। বারিক ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এই দুজনের নাম আগেও চার্জশিটে ছিল। সম্প্রতি বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধান কেনাবেচার সময় কেটে নেওয়া অর্থ বা কাটমানি নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ইডি (ED)।
রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Scam) অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান (Anisur Rahaman), তাঁর ভাই আলিফ নুর বা মুকুল রহমান, বারিক বিশ্বাস, বাকিবুর রহমান ও শঙ্কর আঢ্যর নাম। প্রায় এক বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিন পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। চার্জশিটে ব্যক্তি ও সংস্থা-সহ মোট ২৯টি নাম ছিল। মামলার কয়েকজনের জামিন বাতিলের আবেদনও ইডি হাইকোর্টে করেছে।
ইডি জানিয়েছে, ধান কেনাবেচায় অনিময় এবং কাটমানির অভিযোগের তদন্তে আরও কিছু নতুন নথি ও তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই লেনদেনে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন শাহানুর মণ্ডল। শুধু রেশন নয়, বসিরহাট এলাকায় বেআইনি ম্যাগনেট ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত থাকার অভিযোগও আছে। শাহানুর ও সাহারাপের নাম নতুন করে চার্জশিটে যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick) গ্রেফতার করেছিল ইডি (ED)। অভিযোগ ছিল, খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন বণ্টনের ব্যাপক দুর্নীতিতে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। কয়েকমাস আগেই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। এরপর একই মামলায় জামিন পান তাঁর ঘনিষ্ঠ আনিসুর রহমান।
অন্যদিকে, এই দুর্নীতি মামলায় গত কয়েক মাসে দফায় দফায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। বারিক বিশ্বাস, বাকিবুর রহমান, শঙ্কর আঢ্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু ব্যবসায়ীর নাম পেয়েছিল, তদন্তকারীরা। রেশন মামলার তদন্তে যে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় হয়েছে, সেই টাকা কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে, এত বিপুল টাকার উৎস কী, তা জানতেই এই তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
Partha Goswami
07/12/2012







