বেঞ্চ জানায়, একসঙ্গে দুটি মামলার শুনানি চলতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী শুনানিতে মাল্যাকে জানাতে হবে, কোন আবেদন তিনি চালিয়ে যেতে চান এবং কোনটি প্রত্যাহার করবেন।
বহু আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত বিজয় মাল্য কবে দেশে ফিরবেন, সেই প্রশ্নই এবার সরাসরি তুলে ধরল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)। মঙ্গলবার বিজয় মাল্যর হাইকোর্টে করা দুটি মামলার (Vijay Mallya petitions) শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভারতে ফিরে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর আবেদনের উপর আর কোনও শুনানি চলবে না (No Hearing Without Surrender)।
২০১৬ সাল থেকে ব্রিটেনে থাকা ৭০ বছর বয়সি বিজয় হাইকোর্টে দুটি পিটিশন করেছিলেন (Vijay Mallya petitions)। একটি তাঁকে ফিউজিটিভ অর্থাৎ পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণা করার আদেশের বিরুদ্ধে এবং অন্যটি ২০১৮ সালের ওই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতাকে প্রশ্ন করে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর ও বিচারপতি গৌতম অঙ্খড় স্পষ্ট বলেন, আত্মসমর্পণ না করেই এ ধরনের মামলা চালানো যাবে না।
কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির (ED) পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, দেশের বিচারব্যবস্থা এড়াতে পালিয়ে থাকা অবস্থায় কেউ আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। তিনি আরও জানান, ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার্স অ্যাক্ট এমন অপরাধীদের আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতেই আনা হয়েছিল। মেহতার দাবি, মাল্যর বিরুদ্ধে চলা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
বিজয় মাল্যর (Vijay Mallya) পক্ষের আইনজীবী অমিত দেশাই আদালতে যুক্তি দেন, মাল্যর আর্থিক দায় অনেকটাই মিটে গিয়েছে, তাঁর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ঋণদাতারা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন। তবে আদালত পাল্টা প্রশ্ন তোলে, আদালতের এখতিয়ারে না এসে কীভাবে অপরাধমূলক দায় মুছে দেওয়া যায়?
এছাড়া বেঞ্চ জানায়, একসঙ্গে দুটি মামলার শুনানি চলতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী শুনানিতে মাল্যাকে জানাতে হবে, কোন আবেদন তিনি চালিয়ে যেতে চান এবং কোনটি প্রত্যাহার করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীনে বিশেষ আদালত বিজয় মাল্যকে ‘ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার’ ঘোষণা করে। বহু ব্যাংকের ঋণ শোধ না করা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত বিজয় মাল্য ২০১৬ সালের মার্চে দেশ ছাড়েন।
সম্প্রতি বন্ধু বিজয় মাল্যর (Vijay Malia) জন্মদিনের পার্টিতে একসঙ্গে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল ললিত মোদীকে (Lalit Modi)। সেই ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গেছে, এবার আরও একটি ভিডিও হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ললিত মোদী নিজেকে এবং বিজয় মাল্যকে ‘ভারতের দুই সবচেয়ে বড় পলাতক’ বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, তাঁরা ভারতের আইন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করতেই এমন মন্তব্য করেছেন।
Partha Goswami
24/12/2025







