কিন্তু ‘ডিউটি’তে যাওয়ার আগেই এবার ‘ভাতা’ নিয়ে খোদ খাকি উর্দিধারীদের মধ্যেই দানা বাঁধছে তীব্র অসন্তোষ। অভিযোগ, ভোটের ডিউটিতে খাবারের ভাতা থেকে শুরু করে ফোনের খরচ, সবকিছু নিয়েই চলছে চূড়ান্ত বৈষম্য।
হাতে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। তার পরেই প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) ডিউটিতে বুথে বুথে ছড়িয়ে পড়বেন পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কিন্তু ‘রণক্ষেত্রে’ যাওয়ার আগেই এবার ‘ভাতা’ নিয়ে খোদ খাকি উর্দিধারীদের মধ্যেই দানা বাঁধছে তীব্র অসন্তোষ। অভিযোগ, ভোটের ডিউটিতে খাবারের ভাতা থেকে শুরু করে ফোনের খরচ, সবকিছু নিয়েই চলছে চূড়ান্ত বৈষম্য।
কোথাও হাজার, কোথাও দু-হাজার কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই বলেই অভিযোগ। অভিযোগের তির মূলত নির্বাচনকালীন টিফিন বা খাবারের ভাতা নিয়ে। পুলিশ কর্মীদের একাংশের দাবি, একই জেলায় ডিউটি করেও ভাতার পরিমাণে বিস্তর ফারাক। কোথাও কর্মীদের হাতে ধরানো হচ্ছে এক হাজার টাকা, আবার কোথাও সেই অঙ্কটা গিয়ে ঠেকছে দুই হাজারে। কেন এই তারতম্য? তার কোনও সদুত্তর মিলছে না প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে। বাহিনীর অন্দরে ক্ষোভ জমেছে এই ভেবে যে, একই পরিশ্রমে কেন পকেটে আলাদা আলাদা টান পড়বে?
ফোনের টাকাতেও হাত? ভোটের সময় যোগাযোগই সব। পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে সেক্টর অফিসার, সবার সাথেই পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা আবশ্যিক। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক থানায় পুলিশ কর্মীদের প্রাপ্য ‘ফোন অ্যালাওয়েন্স’ বা মোবাইল রিচার্জের খরচটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। বহু পুলিশ কর্মী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করেই যদি ডিউটি করতে হয়, তবে সরকারি ভাতা কার স্বার্থে?
নিচুতলায় ক্ষোভের আগুন শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের দাবি, ভোটের ডিউটিতে এমনিতেই নাওয়া-খাওয়ার ঠিক থাকে না। রোদ-জল মাথায় নিয়ে বুথ পাহারা দিতে হয়। সেই পরিস্থিতিতে যদি খাবারের টাকা বা যাতায়াতের খরচ নিয়ে এমন ‘লুকোচুরি’ চলে, তবে মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
ইতিমধ্যেই এই বৈষম্যের বিষয়টি বাহিনীর অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে এই ‘ভাতা-বিভ্রাট’ মেটাতে শেষ মুহূর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
Partha Goswami
22/04/2026







